বাধা দিলে বাড়বে বিক্ষোভ

0
369
Print Friendly, PDF & Email

মার্চ ফর ডেমোক্রেসিকে গণতন্ত্রের ‘হ্যাঁ-না’ ভোট হিসেবেই দেখছে বিরোধী জোট। ১৮ দল নেতারা বলছেন, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ইতিমধ্যেই মঞ্চস্থ হয়েছে একতরফা নির্বাচনী প্রহসনের প্রথম পর্ব। শেষ পর্ব মঞ্চস্থের জন্য ৫ই জানুয়ারির অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই জনমতের ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মাধ্যমে নতুন পথের দিশা দেখাতে চায় বিরোধী জোট। দেশবাসীকে নিয়ে শুরু করতে চায় নতুন দিনের পথচলা। যে নির্বাচনে বয়সের বাধ্যবাধকতা নেই। নেই নির্বাচনী এলাকার সীমাবদ্ধতা কিংবা পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের ঝামেলা। কেবল অংশগ্রহণ। দেশের সকল সক্ষম নাগরিকের রয়েছে সে অংশগ্রহণের সুযোগ। মার্চ ফর ডেমোক্রেসি নিয়ে এমন কথাই বলেছেন ১৮দলের নেতারা। এমনকি কর্মসূচি ঘোষণার সময় খোদ বিরোধী নেতা খালেদা জিয়াই বলেছেন, অভিযাত্রা হবে নির্বাচনী প্রহসনকে ‘না’ বলতে, গণতন্ত্রকে ‘হ্যাঁ’ বলতে। সেখানে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, সারা দেশের দলমত, শ্রেণী-পেশা, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ‘সক্ষম নাগরিকদের। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরামের এক নেতা জানান, চলমান সঙ্কটের বিষয়টি বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সতর্ক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপটি ব্যর্থ হওয়ার পর দেশের হালনাগাদ পরিস্থিতি, সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল, সাধারণ মানুষের অবস্থান বিশ্লেষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশ ও সংস্থার কাছে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে কাজ করতে নিজেদের অবস্থান ও করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। বিএনপির ওই নেতা জানান, ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে সকল আন্তর্জাতিক মহল। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে তারা মার্চ ফর ডেমোক্রেসি পর্যবেক্ষণ করবেন। ২৯শে ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে গণভোটের মতো। তারা দেখতে চায় ওইদিন দেশের মানুষ কি মনোভাব প্রকাশ করে। এ কর্মসূচিতে সরকারের দমন-পীড়ন ও বিরোধী দলের সাফল্য-ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ব্যাপারে বন্ধু রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ কৌশল ও করণীয়। এদিকে বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার ঘোষিত রাজধানীমুখী ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে সরকার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৮দল নেতারা কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে আশাপ্রকাশ করে বলেন, মার্চ ফর ডেমোক্রেসির মাধ্যমে দেশবাসী তাদের মতামত প্রকাশ করবে। সরকার বাধা দিয়ে উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করতে পারলেও জনমত পরীক্ষা ঠেকাতে পারবে না। কারণ বাধা দিলে সংঘাত সৃষ্টি হবে, মানুষের ক্ষোভ বাড়বে, যা অনিবার্যভাবেই সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। তাই বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অগ্রযাত্রায় মানুষের ঢল নামানো। সরকার বাধা না দিলে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমাবেশের বিশ্ব রেকর্ড হবে ২৯শে ডিসেম্বর। বাধা দিলে আরও প্রবল হবে বিক্ষোভ। ওদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়ন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হামলাসহ সরকারের নানা অসহযোগিতার মধ্যেও সারা দেশে চলছে কর্মসূচি সফল করার জোর প্রস্তুতি। তবে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি নিয়ে কোন প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেনি ১৮ দল। জোটের প্রতিটি জেলা ইউনিট ও সাধারণ মানুষের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের ভার। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, কমিটি গঠন হলে নেতাদের মধ্যে প্রাধান্য তৈরি নিয়ে নানা অসন্তোষের জন্ম নেয়। সে জন্য জনতার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে সারা দেশে ১৮দলের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সাংগঠনিক ইউনিট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। বিএনপির কয়েকজন জেলা সভাপতি জানান, ৫ই জানুয়ারি হচ্ছে ১৮দলের জন্য তামাশা প্রতিরোধ দিবস। তার আগেই ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’। এ অভিযাত্রা সফল হলে জনগণ ফিরে পাবে শান্তি, স্বস্তি ও ভোটাধিকার, কেটে যাবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে সংশয়, লজ্জা বুকে ধারণ থেকে রেহাই মিলবে ইতিহাসের। তাই ২৯শে ডিসেম্বরের অভিযাত্রা সফল করতেই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী নেতাকর্মীরা। বিএনপির নীতিনির্ধারক এক নেতা বলেন, ৫ই জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে ইতিমধ্যে দেশের ৫ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। যাদের একটি বড় অংশই হচ্ছে নতুন ভোটার। যারা জীবনে প্রথমবারের ভোটদান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রথমবার ভোট দানের বিষয়ে প্রত্যেকের একটি আবেগ ও কৌতূহল রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটাধিকার বঞ্চিত ৫ কোটি জনগণের জন্য ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই অভিযাত্রার মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক শাইরুল কবির খান কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশবাসীকে অভিযাত্রায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কাউকে তার দলে বা মঞ্চে ডাকেননি। প্রত্যেককেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানে থেকেই কেবল গণতন্ত্রের জন্য জাতির আবেগ-অনুভূতির প্রতীক জাতীয় পতাকা হাতে মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে অংশগ্রহণের ডাক দিয়েছেন। এদিকে কর্মসূচি ঘোষণার পর দুইদিনে সারাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সহস্রাধিক বিরোধী নেতাকর্মীকে। দমন-নিপীড়ন ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও চলছে বিরোধী জোটের প্রস্তুতি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া মার্চ ডেমোক্রেসি কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন ১৮দল নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে দূরের জেলাগুলো আসা কয়েক লাখ নেতাকর্মী-সমর্থক বর্তমানে রাজধানীতে অবস্থান করছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে সে সংখ্যা। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার তরফে জানার পরই দিশাহারা হয়ে মন্ত্রীরা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া শুরু করেছেন। ১৮দল সূত্রে জানা গেছে, আজ ২৭শে ডিসেম্বর রাতের মধ্যেই দূরের জেলাগুলো থেকে বেশির ভাগ কর্মী-সমর্থক ঢাকায় চলে আসবেন। মার্চ ফর ডেমোক্রেসিকে সফল করতে সারা দেশে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চালাচ্ছে ১৮দল। গতকালও দিনভর চট্টগ্রামসহ অন্তত ২০ জেলায় প্রচারপত্র বিলি ও পোস্টারিং করেছে ১৮দল। এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি অনুরোধ জানালেও লাঠি দিয়ে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ প্রতিহতের আহ্বান জানিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বহিরাগত কাউকে দেখামাত্র পুলিশের হাতে সোপর্দ করতে আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকাবাসীকে। তবে যেখানে বাধা আসবে সেখানেই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা হবে- বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সহসভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, এই কর্মসূচিতে কোন ধরনের বাধা বা ষড়যন্ত্রকে বরদাশত করা হবে না। গণতন্ত্রের জন্য এই অভিযাত্রায় যেখানে বাধা আসবে আপনাদের সেখানেই আন্দোলন প্রতিরোধ করতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, কোন বাধাতেই কাজ হবে না। শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালিত হবে। দেশনেত্রীর আহবান ইতিমধ্যে সারা দেশে পৌঁছে গেছে। সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এখন ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’

ঠেকাতে গণগ্রেপ্তার

এদিকে ২৯শে ডিসেম্বরের গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ৪০ জেলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নাশকতায় ইন্ধনদাতা হিসেবে ২৩০০ জনের তালিকা করে নেমেছে গ্রেপ্তার অভিযানে। রাজধানীতে বুধবার রাত ১২টা থেকে শুরু করে গতকাল দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানের নাম ছিল ‘ফ্রিডম অপারেশন কোড’। গতকাল রাজধানীতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার নুরুন্নবী, মনিরামপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদল সম্পাদক নিস্তার ফারুক, খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওমর ফারুক, মেহেরপুরের মুজিবনগর বিএনপি নেতা সাবদার আলী, ময়মনসিংহের ত্রিশাল যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মতিন, কক্সবাজারে উখিয়া জামায়াতের সেক্রেটারি সুলতান আহমদ, বান্দরবান জেলা যুবদল সহসভাপতি আবু বক্কর, শ্রমিক দল সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, ঠাকুরগাঁও জেলা শিবির সভাপতি শাহজাহান জুয়েল, বাগেরহাট পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তাইন বিল্লাহসহ যশোরে ৫৫ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২৫ জন, ঝিনাইদহে ১৮ জন, চট্টগ্রামে ১৮ জন, চাঁদপুরে ১৮ জন, জয়পুরহাট ১৫ জন, দিনাজপুর ১০ জন, নোয়াখালীতে ১০ জন, ভোলায় ১০ জনসহ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, মেহেরপুর, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ, মাগুরা, বাগেরহাট, যশোর, ঠাকুরগাঁও, বান্দরবান, কক্সবাজারে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া কর্মসূচি ঘোষণার পর দ্বিতীয় দিনের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় ও নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। এ তিনটি ভবনে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে নেতাকর্মীদের। সেখানে অবস্থান করছেন গোয়েন্দা সংস্থার সাদা পোশাকধারী সদস্যরা। 

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ভণ্ডুলের চেষ্টায় সরকার: ফখরুল

বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার ঘোষিত রাজধানীমুখী ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে সরকার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিরোধী নেতা ৫ই জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে সারা দেশ থেকে সকল শ্রেণী-পেশার জনগণকে লাল-সবুজের পতাকা হাতে ঢাকায় আসার জন্য বলেছেন। এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই সরকারের মাথা বিগড়ে গেছে। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র সফলতা আঁচ করতে পেরেই সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিটিকে যে কোন উপায়ে বাধাগ্রস্ত ও ভণ্ডুল করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এরই অংশ হিসেবে কর্মসূচি ঘোষণার রাত থেকেই বিরোধী নেতার বাসভবন ও গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় অবরুদ্ধ এবং নেতা-কর্মীদেরকে সেখানে প্রবেশ ও প্রস্থানে বাধা প্রদানের পাশাপাশি সারাদেশে যৌথবাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করার এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপি দলীয় সাংসদ শাম্মী আখতারসহ ৪ জন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আজও বিরোধী নেতা বাসভবন ও গুলশানস্থ কার্যালয় অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার সব দিক থেকে ধরাশায়ী বলেই কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তারের নামে পর্যুদস্ত করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু সরকারের এই অপচেষ্টা দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ কখনওই সফল হতে দেবে না। সরকারের উদ্দেশে মির্জা আলমগীর বলেন, অবিলম্বে সারাদেশে যৌথবাহিনী দিয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ করুন। জনগণের দাবি মেনে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের পথে আসুন। দেশকে সংহাত ও নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত না করে শান্তির পথে আসুন, অন্যথায় জনগণ তাদের দাবি আদায়ে অতীতের মতোই ঐক্যবদ্ধভাবে গণদাবি মেনে নিতে আপনাদেরকে বাধ্য করবে।

দেশব্যাপী ১৮ দলের

বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতন ও মামলা-হামলা এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১৮ দলীয় জোট। গতকাল দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও থানায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি বাধায় বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড হয়ে যায়। রাজধানীর পল্লবীর দোয়ারীপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে পল্লবী থানা বিএনাপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশ বাধায় মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। আদাবরের পিসিকালচার হাউজিং থেকে রিং রোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে আদাবর থানা বিএনপি। এসময় পুলিশি হামলায় শিবলু, আবু বক্কর ও দেলুসহ ৩ জন নেতা আহত হয়। দারুস সালামের মাজার রোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কামরাঙ্গীর চরের গুদারাঘাট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তেজগাঁওয়ের পূর্ব নাখালপাড়া থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি লোকাসের মোড়ে এসে শেষ হয়। বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশি হামলায় মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ পলাশ নামে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করে। ভাটারার কোকোকলা মোড় থেকে মিছিল বের হলে পুলিশি হামলায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় পুলিশ শ্রমিক দল নেতা ইফতেখার হোসেন, আব্দুল মান্নান ৪ জন গ্রেপ্তার হয়।

মুক্তিযোদ্ধা দলের বিক্ষোভ: বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও একতরফা নির্বাচন বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। এরপর বিজয়নগর কাঁচাবাজার হয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান। এছাড়া শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার পাঁচ দফা অবরোধে সরকারের ‘পেটোয়া বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসী’দের হত্যা, হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শেয়ার করুন