খালেদা জিয়া কি ‘গৃহবন্দি’, বিতর্ক বাংলাদেশে: আনন্দবাজার

0
31
Print Friendly, PDF & Email

খালেদা জিয়া ‘গৃহবন্দি’ কি না, এই প্রশ্নেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে বাংলাদেশে।

আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে বৃহস্পতিবারই সেনা নামে বাংলাদেশে। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধেই এই সেনা মোতায়েন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘিরে রেখেছে দাঙ্গাবিরোধী পুলিশ।

সরকারপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থের কথা বললেও তাকে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধী শিবিরের। তাদের অভিযোগ, দলীয় সমর্থক, দর্শনার্থী-সহ বাইরের কাউকেই খালেদার বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বুধবার সন্ধ্যায় অবশ্য দলীয় দফতরে যান খালেদা। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বৈঠকও করেন। পরে বাড়িতে ফেরেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনের বিরোধিতা করে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় এক জনসভার ডাক দিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। তার আগেই সরকারের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিরোধীরা। খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা শামশের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “ বুধবার থেকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে তাকে।’’ যদিও পুলিশ সূত্রে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। বরং পুলিশ জানায়, খালেদা জিয়া ও তার দলের অন্য নেতাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ দিকে বিএনপি-র যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়াও আগামী ১৫ দিন বাংলাদেশের রেলপথ ও গুরুত্বপপূর্ণ সড়কগুলির নিরাপত্তা ও যান চলাচলের দায়িত্বেও থাকবে সেনাবাহিনী। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সেনা সাহায্য চেয়ে গত রবিবারই চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশ জুড়ে সেনা মোতায়েন করার অনুরোধ জানানো হয়। প্রায় ৫০ হাজার সেনা এই কাজে সাহায্য করছেন বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে।

তবে নির্বাচনের সময়ে বাংলাদেশে সেনা মোতায়েন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ২০০৮-এর নির্বাচনেও ১২ দিনের জন্য প্রায় ৪৮ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৯টিতেই সেনা মোতায়েন থাকছে। আপাতত জেলা সদর দফতরে রাখা হচ্ছে তাদের।

তবে এর মধ্যেও বাংলাদেশে হানাহানি অব্যাহত। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীতে দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমায় জখম হয়েছেন ৯ পুলিশকর্মী। এদের একজন রাতে মারা গেছেন। মধ্য কুমিল্লায় একটি সরকারি দফতরে আগুন লাগিয়ে দেয় এক দল দুষ্কৃতী। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

শেয়ার করুন