রাজপথে নামতে সংকল্পবদ্ধ খালেদা জিয়া

0
61
Print Friendly, PDF & Email

৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করতে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি এর মাধ্যমে জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকা অভিযাত্রা কর্মসূচিতে রাজপথে নামতে সংকল্পবদ্ধ বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া।গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপিপন্থী কয়েকজন সাংবাদিক। বৈঠক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া বলেছেন, যে কোনো মূল্যে তিনি রাজপথে নামতে চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি আশঙ্কা করেছেন, ওইদিন তাকে বাধা দেয়া হতে পারে। এমনকি বাসা থেকে বের হতে নাও দেয়া হতে পারে । তিনি বলেন, আপনারা প্রস্ততি নিন, যতই বাধা আসুক আমি রাজপথে নামবই।সূত্র জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট হরতাল-অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। শুধু হরতাল-অবরোধ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরকারকে পিছু হঠানো যাবে না উপলব্ধি করে দলের হাইকমান্ড। এমনটি মাথায় নিয়েই গণতন্ত্রের অভিযাত্রা নামে ঢাকা চলো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতে বাধা দিলে অসহযোগ আন্দোলন ও গণকারফিউর মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ারও সিদ্ধান্ত আছে। তবে দলটির জ্যেষ্ঠ একাধিক নেতা জানিয়েছেন, যত বাধা আসুক না কেন ওইদিন খালেদা জিয়া অবশ্যই রাজপথে নামবেন। পাশাপাশি বাধা অমান্য করে নয়াপল্টনে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।এদিকে খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সর্বোচ্চ জমায়েত ঘটাতে বদ্ধপরিকট বিএনপি। ইতিমধ্যে জোটের জেলা ও মহানগর নেতাদের মাঝে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে বলে সংশিল্ট সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এবারের কর্মসূচিও যাতে সফল না হয়, সেজন্য সরকার সম্ভব সব ধরনের চেষ্টা করবে, বাধা দেবেন এটি ধরে নিয়েই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তারা মনে করছেন, তৃণমূলের কর্মীরা ঢাকায় আসতে উদগ্রীব। ঢাকায় আসার ক্ষেত্রে যেখানেই বাধা দেয়া হবে, সেখানেই অবস্থান করা হবে।দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ও তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিএনপির একাধিক নীতি নির্ধারনী নেতা জানিয়েছে, ঢাকায় জমায়েত হতে বাধা দেয়া হলে ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে অসহযোগ বা গণকারফিউর মতো নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে ২০১২ সালের ১২ মার্চ ঢাকা চলো কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় মহাসমাবেশ করেছিল ১৮ দল। ওই মহাসমাবেশে আবাসিক ও খাবার হোটেল বন্ধ, বাস ও লঞ্চ যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করেছিল সরকার। এবারও তেমনি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ১৮ দল। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হোটেল রেস্তেরাঁয় নজরদারি শুরু করেছে।তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট বলছে, যত বাধাই আসুক, তারা কর্মসূচি পালন করবেন-ই। খালেদা জিয়া গ্রেফতার বা গৃহবন্দি হতে পারেন জেনেও তিনি ওইদিন বাসা থেকে রাজপথে নামবেন। বিএনপির দফতর সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার ঘোষণার জেলা ও মহানগরসহ সব ইউনিটে বার্তা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জেলা ও থানা পর্যায়ে কথা বলে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।দলীয় এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেনবেগম খালেদা জিয়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং ৫ জানুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে সারাদেশ থেকে সকল শ্রেণী-পেশার সক্ষম জনগণকে লাল-সবুজের পতাকা হাতে ঢাকায় আসার জন্য মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ঘোষণা করেন। এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই সরকারের মাথা বিগড়ে গেছে।তিনি বলেন, মার্চ ফর ডেমোক্রেসি এর সফলতা আঁচ করতে পেরেই সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিটিকে যেকোন উপায়ে বাধাগ্রস্ত ও ভন্ডুল করতে প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তারই অংশ হিসেবে কর্মসূচি ঘোষনার রাত থেকেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসভবন ও গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় অবরুদ্ধ এবং নেতা-কর্মীদেরকে সেখানে প্রবেশ ও প্রস্থানে বাধা প্রদানের পাশাপাশি সারাদেশে যৌথবাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগে গ্রেফতার ও হয়রানী করার এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিযাত্রা কর্মসূচি বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তবে দেশ নেত্রীর আহবান ইতোমধ্যে সারা দেশে পৌছে গেছে। সব শ্রেনী পেশার মানুষ এখন ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনো বাধাতেই কাজ হবে না। শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালিত হবে।

শেয়ার করুন