এবার শুরু সরকার দলীয় অবরোধ

0
37
Print Friendly, PDF & Email

আজ থেকে শুরু হচ্ছে সরকারদলীয় অবরোধ। ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় আসতে না পারে সে জন্যই এই অবরোধ পালিত হবে। সরকার সমর্থক এবং সরকারি বাহিনী মিলে এই অবরোধ সফল করতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় বা ভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন মালিকদের আজ থেকে বাস না চালানোর জন্য বলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অঘোষিতভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত পরিবহনও আজ থেকে বন্ধ রাখা হতে পারে। নৌযান এবং ট্রেন চলাচলেও বিঘœ সৃষ্টি করা হবে বলে সংশ্লিøষ্ট সূত্র জানায়। আর যে দু-একটি চলাচল করবে তাতেও সংশ্লিøষ্ট টার্মিনাল থেকে বাছাই করে যাত্রী তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৮ দলীয় জোটের কোনো নেতাকর্মী যাতে ট্রেন-লঞ্চে উঠতে না পারেন সে জন্য সরকারি দলের সমর্থকেরা প্রতিটি টার্মিনালে পাহারা বসাবে। তাদের সহায়তা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ দিকে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় অবস্থান করতে না পারে সে জন্য রাজধানীর আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ, রেস্ট হাউজ, ছাত্রাবাস, মেস এবং বাসাবাড়িতে ইতোমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। সংশ্লিøষ্ট থানা পুলিশ আবাসিক হোটেলে গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে যাতে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাচাই-বাছাই করে বোর্ডার তোলে। ইতোমধ্যে সরকারদলীয় এমপি, মন্ত্রী ও নেতারা এই কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ওসমান আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমরা ঢাকার সাথে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে প্রস্তুত; কিন্তু মালিকেরা গাড়ি বন্ধ করে দিলে আমাদের কিছু করার নেই’।

২০১২ সালের ১২ মার্চ ১৮ দলীয় জোটের ঢাকা অবরোধকে ঘিরেও সরকার সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। ১২ মার্চের আগের দু’দিন কোনো যানবাহন ঢাকায় আসতে দেয়া হয়নি। ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল গোটা দেশ থেকে।

আগামী ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে নেতাকর্মীদের রাজধানীতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আহ্বানে ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’তে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে জানা যায়। নেতাকর্মীসহ অনেক সাধারণ মানুষও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়। এ দিকে খালেদা জিয়ার ডাকে মানুষ যাতে রাজধানীতে আসতে না পারে সে জন্য আজ শুক্রবার থেকেই শুরু হচ্ছে সরকারি দলের অ্যাকশন। সূত্র জানায়, আজ সকাল থেকেই কোনো কোনো এলাকার সাথে ঢাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গ বাস মালিক সমিতির এক নেতা বলেছেন, আজ সকাল থেকেই বাস বন্ধ রাখার অলিখিত নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা জানান, সব পরিবহনের ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বরের অগ্রিম টিকিট বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক পরিবহন মালিক জানান, তারা রিস্ক নিয়ে বাস রাস্তায় নামাবেন না। জানা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই উদ্যোগী হয়ে পরিবহন মালিকদের বলে এসেছেন যাতে আজ থেকে কোনো পরিবহন রাস্তায় না নামায়। লঞ্চ মালিক ও নেতাদেরও হুমকি দেয়া হয়েছে, যাতে ঢাকার সাথে যোগাযোগকারী সব নৌযান বন্ধ থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লঞ্চ মালিক নয়া দিগন্তকে বলেন, তারা প্রস্তুত আছেন লঞ্চ চালানোর জন্য; কিন্তু ২০১২ সালের ১২ মার্চের কর্মসূচিকে ঘিরে যে পরিস্থিতি হয়েছিল তাতে নৌযান মালিকেরা শঙ্কিত। ওই কর্মসূচির আগে ঢাকায় আগমনকারী নৌযানে হামলা চালিয়েছিল ঘাট শ্রমিক লীগের লাল বাহিনীর সদস্যরা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেল পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আজ থেকে রেলস্টেশনগুলোতে বাড়তি প্রহরার ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাত্রীদেরকে তল্লøাশি করে ট্রেনে তোলা হবে। কাউকে সন্দেহ হলে তার টিকিট বাতিল করা হবে। সূত্র জানায়, রাজধানীর সব ক’টি প্রবেশপথে আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। যাতে ঢাকায় প্রবেশকারীদের তল্লøাশি করে এবং কী কারণে তারা ঢাকায় আসছে তা জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কাউকে সন্দেহ হলে তাকে প্রবেশমুখ থেকেই ফিরিয়ে দেয়া হতে পারে গ্রামের উদ্দেশে। শনিবার থেকে ফেরিঘাটগুলোও অচল করে রাখা হতে পারে।

এ দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও কিছু কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি মহানগর পুলিশ। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই নয়া পল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ কর্মসূচির জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে আদৌ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়া হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই পুলিশ বাসাবাড়ি ও মেসে গিয়ে বসবাসকারীদের সম্পর্কে তথ্য নেয়া শুরু করেছে। কোন বাসায় কতজন লোক থাকে তাদের তালিকা প্রস্তুত করছে তারা। পুলিশ কোনো কোনো বাড়ি ও মেসে গিয়ে হুমকি দিয়েছে ২৯ ডিসেম্বরের আগে যাতে সদস্য সংখ্যা না বাড়ে। তাহলে সবাইকে ধরে নেয়া হবে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ছাত্রাবাস ও মেসে গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বস্তিগুলোতেও পুলিশ নিয়মিত হানা দিচ্ছে। রাজধানীতে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে যৌথবাহিনীর অভিযান। এই অভিযান নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চলবে বলে মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান। তবে জোরাল অভিযান চলবে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এ দিকে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আগমনকারী ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দেবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে বা হতে পারে এমন আশঙ্কা থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, জনস্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। যেখানে যে মাত্রায় আইন প্রয়োগ করা দরকার সেখানে সে মাত্রায় প্রয়োগ করা হবে। জনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শেয়ার করুন