‘মারামারি করে হ্যারা, মরি আমরা’

0
87
Print Friendly, PDF & Email

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতের পোশাক (শার্ট) বিক্রেতা আবদুস সালাম বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এমনই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে হারতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। এসব কর্মসূচিতে চলছে সহিংসতা ও নাশকতা। মাশুল দিচ্ছে সব শ্রেণীর সাধারণ মানুষ।

 

বিরোধীদলীয় জোট আপাতত অবরোধের মতো কর্মসূচি স্থগিত করেছে। ২৯ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি দিয়েছে ১৮-দলীয় জোট। ঢাকা অভিমুখে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি দিয়েছে তারা। কর্মসূচি সফল করতে দল-মত, শ্রেণী-পেশা, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষ দেশের সব মানুষকে ওই দিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সরকারও তা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

এ নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীরা আরও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এ কর্মসূচির পর ১৮-দলীয় জোট কী কর্মসূচি দেয় বা সরকার কী অবস্থান নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।

 

এ ব্যাপারে আবদুস সালাম বলেন, ‘সংবিধানের দোহাই দিয়ে দুই দল ক্ষমতায় যাইতে চায়। মানুষের জন্যই তো সংবিধান। তাই সংবিধানের কারণে মানুষ মরলে এটা দিয়ে কী হইব? তাঁরা তো সংবিধান সংবিধান করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা ভাঙা সুইটকেস নিয়ে আসে। ক্ষমতায় আইসা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়। আর আমরা সকাল-সন্ধ্যা দাঁড়ায় থাইক্যা হাঁড়ি জ্বালাতে পারি না। দেশের উন্নয়নে তারা কাজ করে না। তারা কেবল কাজ করে নিজেদের আখের গোছানোর জন্য।’

 

রাজনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে অস্থিরতার কারণে বেচাকেনা না থাকায় এমন অবস্থা অনেকেরই। যে ব্যবসার ওপর ভর করে তাঁদের জীবিকার চাকা ঘোরে, হরতাল-অবরোধে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে সে চাকা। ব্যবসায় মুনাফা হবে কি, অনেকেরই পুুঁজি খোয়ানোর জোগাড়।

 

এমন ভুক্তভোগী আরেক দোকানি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘কেউ আমাগো কেয়ার করে না। আমাগো কথা কেউ শোনে না। রাজনীতি হলো পেশা। রাজনীতি মানুষের জন্য নাই। তাঁরা ব্যবসার জন্য যা-ইচ্ছা তা-ই করেন। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা জমান। আর পেটের তাগিদে আমাগো রাস্তায় খাড়াতে হয়।’

 

প্রায় ২০ বছর ধরে মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের সামনের ফুটপাতে দোকানদারি করছেন হামিদ। শীতের টুপি, মোজা ও গেঞ্জি বিক্রি করেন তিনি। তিনি জানান, টানা অবরোধে এক থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি করতেও কষ্ট হয়। তা ছাড়া দোকানে প্রতিদিন খরচ আছে ৩০০ টাকা। খরচা বাদ দিলে কিছুই থাকে না। তাই ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে বলে জানান এই দোকানি।

 

পাশেই চাদর বিক্রি করছিলেন মো. সেন্টু মিয়া। ব্যবসা নিয়ে আতঙ্কের কথা জানালেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কখন কী হয়, তা নিয়ে আতঙ্কে আছি। সব সময় চিন্তায় থাকতে হয়।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কেনাবেচা হলেও অবরোধের সময় বিসমিল্লাহ-বাট্টা করতেই কষ্ট হয় বলে জানান তিনি।

 

মতিঝিলে ফুটপাতের আরেক দোকানি শীতের পোশাক বিক্রেতা মো. খালেক মোল্লার ভাষ্য, ‘দোকানে বিক্রি নাই, তাই কোনো রকমে ডাইল-ভাত খাইয়া আছি। সংসার চালাতেও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

শেয়ার করুন