আমি তো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করছি না

0
72
Print Friendly, PDF & Email

১৫৪ আসনে নির্বাচন যেটা হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই তার বৈধতা থাকবে না। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে- ভোটার তার ভোটটা দিতে পেরেছে কিনা। ‘না ভোট’ থাকলেও হয়তো মানুষ মতপ্রকাশ করতে পারত। ভোটারকে ভোট দিতে না দিয়ে যদি কেউ বলে আমি নির্বাচিত হয়ে গেলাম, আমি সংসদে তোমার ওপর সিদ্ধান্ত নিতে পারব- সেটার বৈধতা থাকবে না। এটা বোঝার জন্য পলিটিক্যাল সায়েন্স বা প্লেটোর পড়ার দরকার নেই। গত মঙ্গলবার এসএ টিভির টকশো ‘লেট এডিশন’ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এ কথা বলেন। নঈম নিজামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনার ড. সাদেকা হালিম।

 

ড. ইমতিয়াজ বলেন, বাইরের দেশগুলোও বলছে এই নির্বাচনের বৈধতা তারা দেখছে না। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি এতদিন যে নির্বাচন নিয়ে ভাসা ভাসা কথা বলছিল, তারা এখন স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তারা পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ, যুক্তরাষ্ট্র এমনকি জাপানও সামনে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হয়। তারপরও যদি একতরফা নির্বাচন হয় তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। আমি তো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করছি না যে সবার থেকে আলাদা। সবাইকে নিয়ে চলতে আজ হোক কাল হোক সমঝোতায় আমাকে যেতেই হবে।

 

তিনি বলেন, একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে বিরোধী দল কর্মসূচি দিচ্ছে। ১৫৪ জায়গায় নির্বাচন হয়নি। এটা মেনে নেওয়ার প্রশ্ন উঠছে না। কিন্তু, বিরোধী দলে যখন কেউ থাকে তখনই তারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে। সমস্যাটা হয় ক্ষমতায় গেলে। এই নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া অন্য বড় দলগুলোও আসেনি। সেই হিসেবে একটা ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দশম সংসদ নির্বাচনে সম্ভব না, এগারোতে সম্ভব। এগারোতে সম্ভব হলে দশমে কেন সম্ভব হবে না? একটা হিসাবে এই সরকারের মেয়াদ ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত, পার্লামেন্টও এখনো মুলতবি করা হয়নি। তাহলে ইমার্জেন্সি ডেকে কয়েকটা জিনিস ঠিকঠাক করে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তো অসম্ভব না। বিরোধী দলের কর্মসূচির এখনো তিন দিন বাকি। ইচ্ছা থাকলে একদিনেই সমাধান করা যায়। এটা না হলে ২৯ ডিসেম্বর ১৮ দল ঢাকা আসতে চাইছে, হয়তো তাদের বাধা দেওয়া হবে কিন্তু বাধা দিলে এক ধরনের সমস্যা, বাধা না দিলে আরেক ধরনের সমস্যা। তাই তফসিলটাকে যদি আপাতত বন্ধ রাখা যায় এবং সব দলকে নির্বাচনে আনার মতো একটা ফর্মুলা বের করা যায় সেটা সবার জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে। ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সমঝোতা ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। এক সময় সমঝোতা করতেই হবে। আমি কাউকে পছন্দ না করতেই পারি কিন্তু জনগণকে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারি না। ভোটারই সরকার তৈরি করে, সরকার ভোটার তৈরি করে না। গণতন্ত্র মেনে নিলে ঘুরে-ফিরে ভোটারের কাছেই যেতে হবে। যত দেরি হবে তত মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। আজ সাতক্ষীরা সহিংস জনপদে পরিণত হয়েছে। সামনে হয়তো আরও সাতক্ষীরা তৈরি হবে। তিনি বলেন, আজ যে বাচ্চাটা মারা যাচ্ছে তার মা ও পরিবার বুঝছে তারা কী হারাল। এ জন্য প্রাথমিক একটা সমাধান এখুনি করা দরকার। পরে বৃহৎ গণ্ডিতে আলোচনা করে এটার একটা স্থায়ী সমাধান করতে হবে। আইনের ভেতরে শুধু নীতি থাকলে হবে না, ন্যায়টাও থাকতে হবে। তৃতীয় শক্তির কথা উঠছে। বার বারই দেখছি তৃতীয় শক্তি আসার সুযোগ বড় দুই দলই করে দিচ্ছে।

শেয়ার করুন