নির্বাচনের আগে মুক্তি পাচ্ছেন না এরশাদ

0
64
Print Friendly, PDF & Email

চিকিৎসার নামে এরশাদকে সরকার আটক করে রেখেছে বলেই অভিযোগ করে আসছে জাতীয় পার্টির মূলধারার নেতাকর্মীরা। নির্বাচন থেকে সরে আসায় তাকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাকে যেমন হুমকি দেওয়া হয়, তেমনি প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তে তিনি অটল। এ কারণে এখনও আটক রয়েছেন এবং নির্বাচনের আগে কোনো অবস্থাতেই তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জাতীয় পার্টির একাধিক নীতি নির্ধারক জানিয়েছেন।

জাতীয় পাটি নেতারা জানান, এরশাদের নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণায় বেকায়দায় পড়ে শাসকদল আওয়ামী লীগ। এরশাদকে নির্বাচনে ধরে রাখতে সরকার নানামুখী কৌশল অবলম্বন করে। এ কৌশলের অংশ হিসাবে মন্ত্রিসভা থেকে জাপা নেতাদের পদত্যাগ সরকার অনুমোদন করেনি। মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করলে নির্বাচন কমিশন খোড়াযুক্তি দেখিয়ে এরশাদসহ অনেকের আবেদন ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু গণমাধ্যমে এরশাদ তার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকার ঘোষণা করলে সরকার তাকে চিকৎসার নামে আটক করে।

নেতারা আরও জানান, এরশাদকে নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এ বিতর্কের কিছু কিছু যৌক্তিকতা তিনি নিজেও অস্বীকার করছেন না। তিনি সরকারের সঙ্গে আপস করলে যে কোনো সময় মুক্ত হতে পারেন। তবে জীবনের অন্তিম দিনে এসে তিনি আর কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না। দলের মধ্যে যারা সরকারের দালাল, স্যার (এরশাদ) তাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন। সিএমএইচে তারা সরকারের পক্ষে স্যারের সঙ্গে দূতিয়ালি করতে গেলে তাদের কেউ কেউ অপমানিত হয়েছেন। এ কারণে তিনি আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে তার মুক্তির সম্ভাবনা নেই।

সমকালীন রাজনীতি, নির্বাচন, নির্বাচন প্রসঙ্গেএরশাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও তার মুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, এরশাদ সাহেব চাইলে এক মিনিটে মুক্ত হতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করছেন না। আর সরকার তাকে নির্বাচনের আগে ছাড়বে বলে মনে হয় না।

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, দলের মধ্যে আমরা যারা এরশাদের একান্ত অনুগত তারা ভালো নেই। ভালো আছে যারা সরকারের দালালি করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। বেশিরভাগ মিডিয়া সরকারের পক্ষে। জাতি বিভক্ত। কবে এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি পাব জানি না।

পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজি সাইফুদ্দিন আহমদ মিলন প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, এরশাদের আটকের বিষয়টি সরকার অফিসিয়ালি স্বীকার করে না। কিন্তু এরশাদ সরকারের কাছে আটক। আমরা তার মুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।

তিনি বলেন, পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার এরশাদের সঙ্গে সিএমএইচে দেখা করেছেন। তিনি মহাসচিবের কাছে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া তার তরফ থেকে নির্বাচিত এমপিদের পদত্যাগের ব্যপারেও নির্দেশনা রয়েছে। তার এই সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সহসা মুক্ত হতে পারছেন না। তবে ৫ জানুয়ারির আগে কোনোভাবেই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।

জাতীয় পার্টির দলাদলি, সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন উপ-দলের সম্পর্ক ও এরশাদের মুক্তির ব্যপারে জাপা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

তিনি জানান, দলের মধ্যে কেউ সরকারের দালালি করে। কেউ অন্যায়ের বিরোধীতা করে। আবার কেউ নীরব। তারা সুযোগ বুঝে পক্ষ নেয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেও স্যার (এরশাদ) নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তে অনড়। দলীয় নেতাদের মধ্যে যারা সরকারের পক্ষে স্যারের সঙ্গে দূতিয়ালি করে তাদের কারও কারও সাথে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। নির্বাচন বিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে তাকে আরও বন্দী জীবন যাপন করতে হবে। অন্তত নির্বাচন পর্যন্ত তাকে বন্দী থাকতে হবে।

শেয়ার করুন