এজেন্ডা না থাকায় মন্ত্রিসভা বৈঠকও বাতিল

0
416
Print Friendly, PDF & Email

কোনো ধরনের এজেন্ডা না থাকায় আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে সব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে। এই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত মন্ত্রীরাও রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রয়োজন না থাকায় মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, বৈঠক করার মতো কোনো এজেন্ডা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নেই। মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য যেসব বিষয় এসেছে সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ। এই অবস্থায় মন্ত্রিসভা বৈঠক বাতিল না করে কোনো উপায় নেই। এই কর্মকর্তা আরো জানান, বর্তমান প্রশাসন নির্বাচনমুখী। সচিবালয়সহ সরকারের নীতিনির্ধারণী অফিসগুলো চলছে ঢিলেঢালাভাবে। এই অবস্থায় এজেন্ডা আসবে কোথা থেকে? মন্ত্রিসভা বৈঠক বাতিল করা থেকেই প্রমাণ হচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলোতে কোনো কাজ হচ্ছে না। গত কয়েকটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকে নজর দিলে তা আরো স্পষ্ট বোঝা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৯ ডিসেম্বর। ওই বৈঠকে মাত্র দুটি এজেন্ডা ছিল। এর আগের সোমবার বিজয় দিবস থাকায় সরকারি অফিস বন্ধ ছিল। সচরাচর সোমবারই মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনেক সময় বুধবারও নীতিনির্ধারণী এ বৈঠক আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৬ ডিসেম্বর বন্ধ থাকার পর পরবর্তী বুধবারও কোনো বৈঠক ডাকা হয়নি। এর আগের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ২ ডিসেম্বর। ওই বৈঠকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা অংশ নিয়েছিলেন। এর পর থেকে তারা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। জাতীয় পার্টির ছয় মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা সরকার থেকে পদত্যাগ করলেও তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী। আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক না করার সিদ্ধান্তটি জাতীয় পার্টির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও জানানো হয়েছে।

এদিকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও তারা সরকারের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। গত সপ্তাহে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম সরকারি প্রটোকল ব্যবহার করে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ সফর করেছেন। এ ছাড়া তিনি মন্ত্রীর প্রিভিলেজড স্টাফও নিয়োগ দিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত একজন পূর্ণমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিস করে লাভ নাই। সচিবালয়ে কোনো কাজ হয় না। কর্মকর্তারা সবাই রাজনৈতিক আলাপে মশগুল থাকেন। তাঁদেরকেও দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ দেশের অবস্থা আসলেই খুব খারাপ। কেন্দ্রীয় প্রশাসন চলছে না। মাঠ প্রশাসনেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

একজন সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকেই প্রশাসনে গা-ছাড়া ভাব চলে এসেছে। এই স্থবিরতার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিতে হয়। তা ছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রদবদল করতে হলেও কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এসব কারণেও প্রশাসনে কাজের গতি কমে এসেছে। তবে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের একজন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। তাঁর মতে, ঢাকায় থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পাওয়া যাচ্ছে না। মফস্বল শহরে বোঝা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা কত বেশি। ঢাকায় মানুষ চলাচল করতে পারছে। অনেক বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু মফস্বলে হরতাল-অবরোধের প্রকোপ খুব বেশি। মাঠ প্রশাসনের এই কর্মকর্তার মতে, দেশের এই অবস্থায় প্রশাসনে কাজ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ যেসব কর্মকর্তা কাজ করবেন তাঁরা এ দেশেরই সন্তান। তাঁদের আত্মীয়-পরিজন গ্রামে থাকেন। তাঁদের কথা শুনে কাজে মন বসার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বলতে শুধু আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈঠক হয়নি। অন্য মন্ত্রিসভা কমিটিগুলোও নিষ্ক্রিয় রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন করতে হলে একনেক বৈঠক করতে হয়। নির্বাচনী আইনের বিধিনিষেধের জন্য সরকার একনেক বৈঠকও করতে পারছে না।

শেয়ার করুন