নির্বাচন নিয়ে মাঠ প্রশাসনে উদ্বেগ আতঙ্ক, অস্থিরতা

0
357
Print Friendly, PDF & Email

৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ প্রশাসনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের মনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। নিজেদের ও ভিআইপি প্রার্থীদের নিরাপত্তা, সংঘাত-সংঘর্ষ, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের কারণে অস্থিরতা ও উদ্বেগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে এমন জেলার মাঠ প্রশাসন বেশ আরামে আছেন। তারা এখন অফিসের কাজেই বেশি মনোযোগী। জেলা শহরের বাইরে উপজেলা প্রশাসন বা খুব বেশি দরকার না পড়লে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকছেন না। বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ভয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। মহানগরীতে অবস্থান করছেন এমন ১০ ডিসি’র সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি অডিটোরিয়ামে সকাল সাড়ে দশটায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে মাঠ প্রশাসনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা কাটানোর জন্য নানা নির্দেশনা দেয়া হতে পারে। কারণ সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষপ্রবণ জেলা বলে পরিচিত রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, চট্টগ্রাম, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঠাকুরগাঁও, মানিকগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, গাজীপুর, নোয়াখালী ও কক্সবাজার জেলার ডিসিরা আছেন বেশ ভয়ে। নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী রয়েছে এমন জেলার ডিসিরাও বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। কারণ নির্বাচনের কাজে মন্ত্রিসভার সদস্যরা এলাকায় গেলে তাদের ভিআইপি প্রটেকশন দিতে হচ্ছে। সংঘাত-সংঘর্ষ মোকাবিলার পাশাপাশি ভিআইপি নিরাপত্তা দেয়াকে বাড়তি চাপ মনে করছেন তারা। এর পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা রয়েছে। অনেক ডিসি ও ইউএনওরা তাদের পরিবার ঢাকায় রেখেছেন। ডিসিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের প্রধান ব্যক্তি ডিসিরা। এ জন্য সব বিষয়ে তারাই টার্গেটের কারণ। মনোনয়নপত্র বাতিল, বৈধ বা ফলাফল ঘোষণা থেকে শুরু করে সব কাজই তারা করে থাকেন। এ জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বা প্রার্থী হননি এমন সবার চোখ থাকে ডিসির দিকে। এ কারণেও তাদের ভয়ের মাত্রা বেশি। ওদিকে জয়পুরহাটের সবক’টি সংসদীয় আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা। এরপরও গত কয়েক দিন ধরে জয়পুরহাটে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে কয়েক জন মারাও গেছেন। নিজেরা অস্থির নন এমন দাবি করে জয়পুরহাটের ডিসি মোহাম্মদ ইয়াসীন মানবজমিনকে জানান, জয়পুরহাটের পরিস্থিতি এখন শান্ত বলা যায়। আর এ জেলার দুইটি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাই ভোট হবে না। যৌথবাহিনীর অবস্থানের পরও সাতক্ষীরার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। ওই জেলাটি স্বাধীন এমন কথাও বলছেন কেউ কেউ। জেলাটির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে না পারায় ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা জেলার এসপিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সরকারের পরীক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরকে। এরপর থেকে চলছে অভিযান। নিজের জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে সাতক্ষীরার ডিসি ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার মানবজমিনকে জানান, উদ্বেগ নেই। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করার জন্য। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রে উপজেলার অবস্থা জানিয়ে চিঠি দিতে না পারলেও নিজ জেলার ডিসিদের কাছে তারা চিঠি দিচ্ছেন। অনেক ইউএনও তাদের উপজেলায় দীর্ঘ মেয়াদে বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ করছেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের আগে ও পরে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কয়েকটি উপজেলার ইউএনওরা এদিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন। অনেক ইউএনও তাদের পরিবার-পরিজনকে রাজধানী ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য নিহত বা আহত হলে আঁতকে উঠছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অনেকে গানম্যান ছাড়া চলাফেরা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। তারা শান্তিতে অফিস করতে এবং চলাফেরা করতে পারছেন না।

শেয়ার করুন