হাসিনার সম্পদ বেড়েছে ২ কোটি টাকা

0
351
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পদ গত পাঁচ বছরে বেড়েছে দুই কোটি দুই লাখ ৪৩ হাজার ১৩৫ টাকা। নির্বাচন কমিশনে শেখ হাসিনার দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ২০০৮-০৯ অর্থবছরের আয়কর বিবরণী অনুযায়ী শেখ হাসিনার নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৫৪ লাখ ২ হাজার ৯০৪ টাকার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের আয়কর বিবরণীতে দেখা যায়, তাঁর নিট সম্পদ পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯ টাকার।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নামে ছয় একর কৃষিজমি রয়েছে, যার আনুমানিক দাম ছয় লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এখান থেকে তাঁর বছরে আয় হয় ৭৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া মৎস্য খামার থেকে তাঁর আয় বছরে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাছ বিক্রি থেকে বছরে তাঁর আয় ১০ লাখ টাকা। ব্যাংকে তাঁর নগদ টাকার পরিমাণ চার লাখ ৯৮ হাজার। আর ব্যাংকে প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে পাঁচ কোটি টাকার কিছু বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর একটি গাড়ি রয়েছে যেটি দানে পাওয়া। তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরনির্মিত অলংকারাদির মূল্য ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্র রয়েছে সাত লাখ ৪০ হাজার টাকার। হলফনামা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশম জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দশম জাতীয় সংসদে তিনটি সংসদীয় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হলফনামা থেকে পাওয়া গেছে তাদের বৈধ উপার্জন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পদের নানা তথ্য।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অর্থমন্ত্রীর আয়ের বেশিরভাগই আসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার নামে থাকা শেয়ার থেকে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এইচএসসি পাশ এবং পেশা হিসেবে সমাজসেবার কথা উলেস্নখ করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। রওশন এরশাদ একশ’ ভরি স্বর্ণের মালিক। প্রধানমন্ত্রীর আয় আসে কৃষি ও মৎস্য খাত থেকে।

প্রার্থীদের হলফনামায় উলেস্নখ করা এসব তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের(ইসি) ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেট-১ আসনের একমাত্র বৈধ প্রার্থী। নিজেকে এমপিএ পাশ হিসেবে উলেস্নখ করেছেন তিনি। ইসির হলফনমায় দেখা গেছে বছরে ব্যবসা থেকে তার আয় মাত্র ২৫ হাজার ৮শ’৫৮ টাকা। তবে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে তিনি বছরে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেন, চাকরি থেকে আয় করেন ১১ লাখ ৩ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমাকৃত অর্থের পরিমাণ মাত্র ৮ লাখ টাকা।

এছাড়াও বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে অর্থমন্ত্রীর শেয়ারের পরিমাণ ৪২ লাখ টাকা। জনতা ব্যাংকে তার ঋণ আছে ৩৫ লাখ টাকা।

সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দশম জাতীয় সংসদ সুনামগঞ্জ-২ আসনের একমাত্র বৈধপ্রার্থী। তার নিজের নামে কোনো ব্যাংকে টাকা জমা নেই। তবে স্ত্রীর নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৯শ’৬ টাকা জমা আছে। তিনি বছরে কৃষিখাত থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার, বাড়ি ভাড়া থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার ৯শ’১৮ টাকা আয় করেন। শেয়ার বাজার থেকেও তার আয় আছে। তবে তা মাত্র ২৪ হাজার ১শ’৯৯ টাকা।

ডা·দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের একমাত্র বৈধপ্রার্থী। তার নগদ টাকার পরিমাণ মাত্র দেড় লাখ টাকা। আর বার্ষিক আয় মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা পারিতোষিক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিসিন এবং সার্জারিতে স্নাতক শেষ করেন তিনি। এর পর তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব ল ডিগ্রি অর্জন করেন।

কুষ্টিয়া-৩ সংসদীয় আসনের একমাত্র বৈধপ্রার্থী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। টিভি টক শো থেকে প্রাপ্ত আয়ের তথ্য হলফনামার বিবরণীতে উলেস্নখ করেছেন তিনি। বছরে এ বাবদ তিনি আয় করেন ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৮ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উলেস্নখ করা হয়েছে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)। নগদ টাকার পরিমাণ ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা প্রায়।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ সংসদীয় আসনের একমাত্র বৈধ প্রার্থী। তার নগদ টাকার পরিমাণ মাত্র ৫৫ হাজার টাকা। প্রতি বছর ‘পেশা’ থেকে তিনি ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭শ’ টাকা আয় করেন। সাংবাদিকতা, বর্তমানে এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে বেতন ভাতা এবং বই ও পত্র পত্রিকায় লিখে তিনি এই টাকা পান বলে উলেস্নখ করেছেন তিনি। এছাড়া তার নিজের নামে উত্তরায় ৫ কাঠা জমিসহ ২৫ তোলা স্বর্ণ আছে। হলফনামায় ৭৫ হাজার টাকা সমপরিমাণের আসবাবপত্রের কথাও উলেস্নখ করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে নিজেকে বিএ পাশ দেখিয়েছেন তিনি।

রওশন এরশাদ দশম জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামায় তিনি নিজেকে ১শ’ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিক বলে দেখিয়েছেন। শেয়ারে তার বিনিয়োগ আছে প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। নগদ টাকা ৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা সহ বছরে বাস, ট্রাক ও মটরগাড়ীর ব্যবসা থেকে তার আয় ১ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৭শ’৫০ টাকা আয় করেন বলে উলেস্নখ করেছেন। ইসির হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উলেস্নখ করেছেন বিএ পাশ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের নিজের নামে কোনো জমি নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে বিএ পাশ বলে উলেস্নখ করেছেন তিনি। নাসিমের নগদ টাকার পরিমাণ মাত্র ২১ হাজার। তবে স্ত্রীর নামে ৫ দশমিক ৫১ একর জমিসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা আছে। বছরে বাস, ট্রাক ও মটরগাড়ির ব্যবসা থেকে প্রায় ৩১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৮ টাকা আয় করেন।

শেয়ার করুন