দেশজুড়ে গণবিস্ফোরণ : নিহত আরও ৯

0
104
Print Friendly, PDF & Email

একতরফা নির্বাচন করার চেষ্টার প্রতিবাদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিনও সারাদেশ ছিল বিস্ফোরণোন্মুখ। প্রথম দিনের অবরোধের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দিনেও দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নজিরবিহীন অবরোধে দ্বিতীয় দিনেও অচল ছিল সারা দেশ। রাজপথ, রেলপথ ছিল বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে।
তবে জনগণের এই বিদ্রোহকে দমন করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী বর্বরতা চালিয়েছে। এদিনও নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তাদের সহযোগীর ভূমিকায় ছিল আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা। নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের হামলায় সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের ২ কর্মী এবং সাতক্ষীরায় জামায়াতের ১ কর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া অবরোধকারীদের হামলায় গাজীপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ গতকাল ৯ জন নিহত হয়েছে।
এর মধ্যে গত সন্ধ্যায় যশোরে এক জামায়াত নেতাকে নিজ বাড়িতে গুলি করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আবদুল হাই সিদ্দিকী বুলবুল ছিলেন একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। জামায়াত নেতাদের দাবি, স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বুলবুলকে খুন করেছে। বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার যশোরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া চট্টগ্রামে এক টেম্পো চালক এবং মঙ্গলবার ঢাকায় ককটেল হামলায় আহত ব্যাংক কর্মচারী আজ ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
তফসিল ঘোষণার পর অবরোধে এ পর্যন্ত সারাদেশে সহিংসতায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিএনপি জামায়াতের ৭ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে এ সময় আওয়ামী লীগের ৩ নেতাকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গত ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ১৮ দলের চূড়ান্ত দফার আন্দোলনে গত ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নিহত হয় অন্তত ৩৪ জন। ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ২২ নেতাকর্মী নিহত হয়।
ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলনে গত ২৫ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে।
এদিকে গতকালের অবরোধে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে গতকাল রাজশাহী ও খুলনায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। রাজশাহীতে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়। খুলনায় আহত হয় নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপিসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
এছাড়া বরিশালেও অবরোধকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালালে অনুরূপ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কাশিপুর এলাকা। সেখানে এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদসহ ১৮ দলের ৩২ নেতাকর্মী আহত হয়।
অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সারাদেশে অন্তত ৩৫ জেলায় হামলা, সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ সাত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৪ পুলিশ ও তিন সাংবাদিক রয়েছেন।
এদিকে গতকাল রেল যোগাযোগ ছিল প্রায় বন্ধ। অবরোধকারীরা গতকাল ভোরে জয়পুরহাটে রেললাইন উপড়ে ফেলায় চার ঘণ্টা রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। সিরাজগঞ্জে গভীর রাতে রেললাইন কেটে ফেলায় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এখনও সেখানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
সকালে যশোরের রূপদিয়া স্টেশনের কাছে রেললাইন উপড়ে আগুন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। চাঁদপুরে রেললাইনে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। এদিকে আগের রাতে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে লাইনচ্যুত অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন সরানো গেলেও বগি উদ্ধার শেষ না হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিএনপি-জামায়াতের ২ জন নিহত
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ হামলা চালাকালে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে আবদুল জলিল (৫৫) নামে এক জামায়াত কর্মী ও মাসুম বিল্লাহ (২৮) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত আরও অর্ধশত আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে বেলকুচির কল্যাণপুর থেকে জামায়াত ও বিএনপি নেতা কর্মীরা প্রায় আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুকুন্দগাতী বাজারে এসে অবরোধের পক্ষে অবস্থান নেয়।
জামায়াত-বিএনপির মিছিলটি মুকন্দগাতি বাজার এলাকার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে আসা মাত্র আগে থেকেই অবস্থান নেয়া পুলিশ মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। একই সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ওই মিছিলের ওপর গুলি চালায়।
এ সময় র্যাব ও বিজিবি ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় মাসুম বিল্লাহ ও আবদুল জলিল গুলিতে নিহত হন। আহত হয় ২৫ জন।
নিহতদের মৃতদেহ তাদের পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত বিএনপির হামলায় তাদের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাতক্ষীরায় গণবিস্ফোরণ, পুলিশের গুলিতে জামায়াত কর্মী নিহত, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতিসহ গ্রেফতার ১১
সাতক্ষীরায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। বুধবার ভোররাতে সদর উপজেলার আগরদাড়ি ইউনিয়নের আবাদের হাটখোলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামসুর রহমান (৩৫) শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের আবদুল মাজেদের ছেলে।
জানা যায়, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরতে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সদরের আগরদাড়ি মাদরাসা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শত শত গ্রামবাসী সড়কে নেমে পড়ে। তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করে। এ অভিযানে জনগণের কাছে পুলিশ ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার রাতে খুলনা পুলিশের ডিআইজি মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে র্যাব ও বিজিবির সহায়তায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গুলিতে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা শামসুর রহমান নিহত হয়। এ সময় হাজারো গ্রামবাসী সড়কে বসে পড়ে। সাতক্ষীরা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। ভোর ৫টার দিকে পুলিশ জনতার ব্যারিকেড ভেঙে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়।
যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরক র্মীরা সদর উপজেলা এলাকার আবাদেরহাট বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী কার্তিক সাধু, নূর ইসলাম, শাহ আলমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান; তাপস আচার্য এবং গোপাল হালদারসহ অন্তত পাঁচজনের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়ে আগুন দেয়।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল খালেক মণ্ডল সাংবাদিকদের জানান, ‘যৌথবাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য ৩৩টি গাড়ি নিয়ে এলাকায় আসে এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। এ সময় এলাকাবাসী মাইকিং করলে লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের গুলিতে শামছুর রহমান নামে আমাদের এক কর্মী মারা গেছে।’
সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় যৌথবাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল গফফার জানান, গত ৫ বছরের মধ্যে আগরদাড়িতে এটি পুলিশের সবচেয়ে বড় ধরনের অভিযান। পুলিশের গুলিতে নিহত শামসুর রহমান (৩৫) জামায়াতের কর্মী।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সদরের আলিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জামায়াত, শিবির ও নিরীহ গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে গতকাল ১৮ দলের ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা শহরের কদমতলা, রামচন্দ্রপুর মোড়, বাকাল ব্রিজ, চালতেতলা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখে।

কলারোয়ায় অবরোধের গাছচাপায় মহিলার মৃত্যু
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গোপীনাথপুরে রাস্তা অবরোধ করে রাখা গাছ সরাতে গিয়ে গাছচাপায় এক মহিলা নিহত হয়েছে। গতকাল বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিলা গোপীনাথপুরের হারুনার রশিদের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (২৪)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ দারা খান জানান, রাতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা একটি গাছ অর্ধেক কেটে রাস্তার ওপর ফেলে সড়ক অবরোধ করে। বেলা ১২টার দিকে আম্বিয়া গাছের ডাল-পালা কাটার জন্য সেখানে গেলে বাকি অর্ধেক গাছের নিচে সে চাপা পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত
বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ.স.ম. হান্নান শাহকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত হরতালে গতকাল কালীগঞ্জ ছিল রণক্ষেত্র। এ সময় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হরতাল সমর্থকরা আওয়ামী লীগ নেতা ও জামালপুর ইউপি সদস্য কামাল হোসেন শেখকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকালে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দোলান বাজারে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করে।
দুপুর দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মো. কামাল মেম্বারের নেতৃত্বে দোলান বাজার থেকে একটি হরতালবিরোধী মিছিল নিয়ে চুপাইরের দিকে অগ্রসর হলে দীঘিরপাড়ে হরতাল সমর্থকরা পেছন দিক থেকে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কামাল মেম্বার আহত হন। এছাড়াও ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ হোসেনসহ (২৪) উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়।
কামাল মেম্বারকে উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডা. মো. মাসুদ রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কামাল মেম্বারের মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দোলান বাজারের প্রায় ১০টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় এবং প্রায় ৪০টি দোকানে ভাংচুর করে।
অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে নরসিংদীর পলাশ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহরিয়ার আল মামুনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হরতাল সমর্থকরা বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পালের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ব্যস্ততম স্থান সোনালী ব্যাংক মোড়ের মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে অজ্ঞাত ৩ ব্যক্তি একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এর ৫ মিনিট পর ৫০ গজ দূরে পুরাতন ব্যাংকের মোড়ে আরও একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ভয়ে পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। উপজেলার সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শেয়ার করুন