রাষ্ট্রপতির অধীনেই নির্বাচন!

0
48
Print Friendly, PDF & Email

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে পারে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেক্ষেত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো দিন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি কিছুটা ছাড় দিয়ে শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে দলটির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে এখনও না করায় বিএনপির ওই শীর্ষনেতা নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক। তিনি আরও জানান, এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে প্রধান করে নির্বাচনের সময়ে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির কোনো আপত্তি থাকবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অপর এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এটা থেকে ধরে নেওয়া যায়, দেশের প্রধান বিরোধী দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতিকে মেনে নিয়েছেন। তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে বিরোধী দলের আর কথা বলার থাকবে না।

আওয়ামী লীগের ওই নেতা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তো একবারও কোথাও বলেননি তার অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। বরং বলেছেন দেশের শান্তির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব চান না। বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দল সঙ্গে নিয়ে সুষ্ঠু ও অবাধ একটি নির্বাচন করতে চান তিনি। এজন্য তিনি বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণও জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি তার আহ্বানে সাড়া দেননি।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে জানান, দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বিকল্প নেই। তার পদত্যাগই সব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।

তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনে তার দল বিএনপি যাবে কি-না এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে রিজভী বলেন, আমরা আন্দোলন করছি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য। যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত অর্থে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমাধানে কীভাবে প্রধান বিরোধী দলকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো যায় সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কারণ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দেশ-বিদেশের নানা মহলের চাপের মধ্যে রয়েছে মহাজোট সরকার।

এদিকে, সমঝোতার মাধ্যমে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে এলে ঘোষিত তফসিল পরিবর্তন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

শেয়ার করুন