রংপুরে ভোটের মাঠে শেখ হাসিনা ও এরশাদ

0
32
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরের ছয়টির মধ্যে তিনটি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসন থেকে এবং জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ রংপুর-৪ ও রংপুর-৩ সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি এক হয়ে ভোট করলে সব আসন তাদের ঘরে যাবে। তবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের সকাল-বিকাল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট হওয়ার পরও এ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটি আসন কৌশলে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনে মহাজোট আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রাপ্ত ভোট ১২ লাখ ১২ হাজার ৩৩০, চারদলীয় জোট বিএনপি ও জামায়াতের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ২২০। বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত থাকলেও জেলার ছয়টি আসনেই এ দলের প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি মশিউর রহমান রাঙা। আওয়ামী লীগের পক্ষে এ আসনে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন চার সম্ভাব্য প্রার্থী। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর রহমান প্রামানিক।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) : আওয়ামী লীগের দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন চার সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা হলেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু, একই পরিবার থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী (ডিউক) ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত আনিসুল হক চৌধুরীর সহধর্মিণী বেগম নিহার চৌধুরী এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এম শাহ্ নেওয়াজ আলী। জাতীয় পার্টি থেকে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম ম-ল ও বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী।

রংপুর-৩ (সদর) : এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন করবেন। তিনি এ আসনের পাশাপাশি রংপুর-৪ আসনের জন্যও দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের এ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন তার পতœী রওশন এরশাদ। দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের ফরম সংগ্রহ করেছেন ১১ জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট রেজিনা রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেন ও বিএনপি নেতা কাওছার জামান বাবলা।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) : এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ লড়বেন। উপ-নির্বাচনে পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মাহবুবার রহমানকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান। বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি এবারও নির্বাচন করবেন এ আসন থেকে। দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কাউনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, এমদাদুল হক ভরসা। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য করিম উদ্দিন ভরসা ও জাতীয় পার্টি পীরগাছা সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য শাহআলম। তবে মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগের পাশাপাশি ওপর মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন জাতীয় পার্টি নেতা আবু নাসের শাহ মাহবুবার রহমান।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) : এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান। তিনি এরই মধ্যে ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগের আরেক নেতা মোতাহার হোসেন মওলা এ আসনের মনোনয়ন পেতে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন। জাতীয় পার্টির শিল্পপতি এসএম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। গত নির্বাচনে হেরে গেলেও তার কর্মী-সমর্থকরা আশা করছেন এবার তিনি বিজয়ী হবেন। বিএনপির মনোনয়নের জন্য জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান আলম ফকির দীর্ঘদিন থেকে মাঠে রয়েছেন।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) : আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় এবারেও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে নির্বাচনের জন্য দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন। জাতীয় পার্টির জন্য আসনটি বরাবরই সুবিধাজনক হলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট হওয়ায় এ আসনটি আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেয় জাতীয় পার্টি। এছাড়া ১৮ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির নুর মোহাম্মদ ম-ল। রংপুরে ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে রংপুর-৪ ও রংপুর-৫ আসনে তুলনামূলক ভোট বেশি।

শেয়ার করুন