আতঙ্কে বিদেশিরা নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

0
213
Print Friendly, PDF & Email

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিদেশিদের অনেকে। এরই মধ্যে পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। এ অবস্থায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে তাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি বিদেশি দূতাবাস থেকে তাদের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ যে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে সে বিষয়টি আদৌ সঠিক নয়। কারণ বিদেশিদের ব্যাপারে সরকার সব সময় নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাকসুদুল হাসান খান জানান, সম্প্রতি বিদেশি পর্যটক কমে গেছে। এর মূল কারণ, বর্তমানে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে তাতে তারা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পর্যটন কেন্দ্রে যেতে খুব একটা সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা জোরদার করার ব্যাপারে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় বিদেশি এক ক্রেতার গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে। এ ধরনের ঘটনা আগামীতে যেন না ঘটে সে বিষয়টিতে নজর দেয়ার ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বাংলাদেশে যে বিদেশি পর্যটক আসছেন তাদের এই ভ্রমণ অনেকাংশে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে তারা মনে করছেন।

জানা গেছে, এরই মধ্যে পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, হংকংসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। এ অবস্থায় দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মকর্তারাও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। যে কারণে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মকর্তারা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া দাফতরিক কাজে বের হচ্ছেন না। এরই মধ্যে বিভিন্ন দূতাবাস থেকে নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাফেরার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে আসা অনেক বিদেশি পোশাক ক্রেতা এখন ঢাকায় গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। যে কারণে বাংলাদেশের অনেক পোশাক রফতানিকারক বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য বাংলাদেশের বাইরে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গার্মেন্ট মালিক হংকং, সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ বেশ কয়েকটি দেশে রয়েছেন। এর মূল কারণ হচ্ছে বিদেশে বসেই কেনার আদেশ গ্রহণ করা। প্রচলিত নিয়মে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে বসেই আলাপ-আলোচনা করেন। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই এ নিয়ম পাল্টে গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গার্মেন্টের এক মালিক প্রথম বারের মতো ওয়ালমার্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভিয়েতনামে। অথচ এ বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। এ ব্যাপারে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদি জানান, ১৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সঙ্গে তার দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময় আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তিনি যেতে পারেননি। আবার ক্রেতাদের আসতে বললে তারা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ দেখাচ্ছেন।

জানা গেছে, নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক বিদেশি ক্রেতা নতুন অর্ডার দিতে ভয় পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক হামলার শিকার হওয়া ক্রেতা প্রতিনিধি দলটি এক বছরের জন্য অর্ডার দিতে এসে এক মাসের অর্ডার দিয়ে চলে গেছে। এর পাশাপাশি শীত মৌসুমে বাংলাদেশে বিদেশি যেসব পর্যটক আসার কথা, তাদের অনেকেই এখন ভ্রমণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছেন।

শেয়ার করুন