বিশ্ববেহায়া এরশাদের ডিগবাজি এবং প্রহসন চলছেই

0
35
Print Friendly, PDF & Email

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্ববেহায়া এরশাদের ডিগবাজি এবং প্রসহন চলছেই। এ কাজ থেকে তিনি কোনোভাবে নিজেকে বিরত রাখতে পারছেন না। নানা অজুহাতে বিরতিহীনভাবে তিনি কাজটি করেই চলছেন—ন্যূনতম বিব্রতবোধ করছেন না। গত শনিবার রাতে তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন।
কারণ এরশাদের সর্বদলীয় সরকারের যোগদান এবং একতরফা নির্বাচনে অংশ নেয়ার এদিন এক বিবৃতিতে কাজী জাফর এরশাদকে স্বৈরাচারী ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করেন। আর এ কারণেই কাজী জাফরের ওপর ক্ষুব্ধ হন এরশাদ। তবে এ ক্ষোভ তিনি খুব বেশি সময় টিকিয়ের রাখতে পারননি। আরেকটি রাত না ফিরতেই সুর পাল্টিয়েছেন পতিত সামরিক স্বৈরাচারী এরশাদ। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় পার্টির বনানীর কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি, কাজী জাফর এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। যদি অভিমান করে দিয়েও থাকেন, তিনি জাতীয় পার্টিতেই রয়েছেন। তিনি কখনোই জাতীয় পার্টি ছেড়ে যেতে পারেন না। তবে এখন পর্যন্ত অবস্থান পাল্টাননি কাজী জাফর আহমেদ। গতকাল বিকালে তিনি বলেছেন, এরশাদ দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে গঠনতন্ত্রের ৩৭ ধারা অনুযায়ী তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। অর্থাত্ তিনি এখন খোদ দলের চেয়ারম্যান খোদ এরশাদকেই অপসারণ করতে চান। এ প্রেক্ষিতে এরশাদ এখন কী পদক্ষেপ নেন সেটাই দেখার বিষয়।
তবে এইচ এম এরশাদ এবং কাজী জাফর আহমেদের বর্তমান দ্বন্দ্বকে একটি পাতানো খেলা এবং একটি রাজনৈতিক প্রহসন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান ইলেভেনের পর বেগম রওশন এরশাদকে দিয়ে তিনি এমন খেলা খেলেছিলেন। এরশাদের নির্দশনা অনুযায়ী দলের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে রওশন বিদ্রোহ করেছিলেন। এরশাদকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং নিজেকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন অতিসম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মসীহকে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ নাটকের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু এবার রওশন এরশাদ মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ায় কাজী জাফরকে কুশিলব সাজানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল সকালে কাজী জাফর সম্পর্কে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো ভাঙন নেই। এই পার্টির ঐক্য অটুট রয়েছে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে বলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান। নির্বাচন ও সরকার পদ্ধতিকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির নতুন নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হচ্ছে বলেও এরশাদ জানান।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টি যোগ দেয়ায় দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শনিবার এক বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এরশাদ জনগণের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তার ‘লজ্জাজনক’ ও ‘গণবিরোধী’ কার্যকলাপের পরও চুপচাপ থাকলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
কাজী জাফর বলেন, অসুস্থতা কাটিয়ে উঠলে তিনি পরবর্তী দিক-নির্দেশনা দেবেন। জাতীয় পার্টির ‘সর্বদলীয় সরকারে’ যোগদান ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে তিনি গোটা জাতির মতোই স্তম্ভিত ও হতাশ।
কাজী জাফর আহমদ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির মধ্যে থাকা সরকারের অনুগত নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান গ্রহণ করুন।’ তিনি সুস্থ হলেই দলের অধিকাংশ প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদ সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যানকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি জানাবেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়ার প্রশ্নে এরশাদ জাতীয় পার্টির অধিকাংশ নেতাকে না জানিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ও দোদুল্যমান মন্ত্রিত্বলোভী নেতাকে আওয়ামী লীগের ‘সর্বদলীয়’ সরকারের মন্ত্রিত্বে বসিয়েছেন। কাজী জাফরের ভাষায়, ‘আমরা মনে করি দলের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়ামকে উপেক্ষা করে স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পার্টির গৃহীত পূর্বাপর অবস্থানের বিপরীত এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

শেয়ার করুন