বাজেটের টাকায় ঢাবিতে ফজিলাতুন্নেছার নামে ট্রাস্ট ফান্ড : ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের বিধি লঙ্ঘন : টাকার উত্স স্পষ্ট করেনি হল প্রশাসন : ডোনার ছাড়া ফান্ড গঠনের বিষয়ে জানে না কোষাধ্যক্ষ

0
97
Print Friendly, PDF & Email

কোনো ডোনার (দাতা) ছাড়াই এবার বাজেটের টাকা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠন করা হয়েছে ফজিলাতুন্নেছা ট্রাস্ট ফান্ড। গত ১৮ নভেম্বর প্রশাসনের ইঙ্গিতে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এ ফান্ড গঠন করার অভিযোগ রয়েছে।
তবে বৈধ পন্থায় এটি করা হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। কিন্তু কোন খাত থেকে টাকা এসেছে, তা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি প্রশাসন। প্রশাসনের এ অস্পষ্টতা ও গোঁজামিল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। হলের তহবিল তছরুফ করে ‘রাজনৈতিক’ ফান্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একাধিক কোষাধ্যক্ষ। এতে ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মনে করেন তারা।
জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়। এজন্য প্রধান শর্ত ট্রাস্টের ডোনার/দাতা। তিনি ট্রাস্টের অর্থায়ন করবেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই নিয়ম মেনেই ট্রাস্ট ফান্ড গঠন হয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু গত ১৮ তারিখ এ নিয়ম-নীতি ভেঙে কোনো ডোনার/দাতা ছাড়াই শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রীর নামে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ওই দিন চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক আলভী উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে হলের বাজেট বরাদ্দ থেকে এ ফান্ড গঠন করা হয় বলে জানা যায়। তবে বাজেট থেকে নয়, বরং হলের নিজস্ব অর্থায়নে এটি করা হয়েছে বলে জানান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান। তিনি বলেন, হলের কিছু খাত আছে যেখান থেকে হল প্রশাসন অর্থ ব্যয় করতে পারে। এমন ছয়টি খাত থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এই ফান্ড গঠন করা হয়েছে। তবে ছয়টি খাতের নাম স্পষ্ট জানেন না বলে জানান তিনি।
এদিকে ডোনার ছাড়া হলের টাকায় ট্রাস্ট ফান্ড গঠন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। এটি বিশ্ববিদ্যালযের নিয়মের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তারা। এই ফান্ডকে রাজনৈতিক ফান্ড বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একাধিক কোষাধ্যক্ষ। গরিব মেধাবী ছাত্রীদের টাকা থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে এটি করা হয়েছে বলে জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ রাশেদুল হাসান বলেন, হলের টাকায় ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা অমার্জনীয় অপরাধ। এটি প্রশাসনের ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় ছাড়া অন্য কিছু নয়।
সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোনো নিয়ম-নীতি না মেনেই এই ফান্ড গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাস্ট ফান্ডের চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ডোনার ছাড়া ফান্ড করা হয়েছে কিনা আমি এ বিষয়ে খুব বেশি জানি না। হল প্রশাসনের অর্থে এটা করা হয়েছে। আমি শুধু চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে চেক গ্রহণ করেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো ট্রাস্টি বোর্ড গঠন হয়নি। এছাড়া সিন্ডিকেটেও বিষয়টি পাস হয়নি।

শেয়ার করুন