ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ‘ঐতিহাসিক ভুল’: ইসরায়েল

0
56
Print Friendly, PDF & Email

ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ছয় বিশ্বশক্তি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় সব পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্যতিক্রম শুধু ইসরায়েল। তারা এই সমঝোতাকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তি গতকাল রোববার অন্তর্বর্তী সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর আওতায় ইরান একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করার ব্যাপারে রাজি হয়েছে। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ প্রত্যাহার করা হবে, যার মূল্য ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার।

গত বুধবার জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এতে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয় জার্মানি ও নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। নির্ধারিত দিনের বৈঠক শেষে আলোচনা চতুর্থ দিনে গড়ায়। শেষ দিন গতকাল দুই পক্ষের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়।

জেনেভা আলোচনায় ছয় জাতির পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন। বৈঠকের শেষ দিনে আলোচনায় যোগ দেন ছয় বিশ্বশক্তির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

সমঝোতা অনুযায়ী ইরান ৫ শতাংশের বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না, নতুন করে কোনো সেন্ট্রিফিউজ চালু বা পরবর্তী প্রজন্মের সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করতে পারবে না এবং আর্ক পারমাণবিক চুল্লির নকশা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে সরবরাহ করতে হবে। বিনিময়ে আগামী ছয় মাস তেহরানের ওপর ছয় বিশ্বশক্তি পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না, সোনা ও মূল্যবান ধাতুসহ বেশ কিছু খাতে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, যাতে তেহরানের প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া ইরান বর্তমানে যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করছে, তা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।’ এই সমঝোতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করবে। তবে সমঝোতায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন ওবামা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, এই সমঝোতা ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিরাপদ করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন বলেছেন, ‘আমি উচ্ছ্বসিত। অবশেষে আমরা সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি। এখন আমরা দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী। সমন্বিত একটি চুক্তিতে পৌঁছার পথে এটা গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ।’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ এই সমঝোতাকে ‘পুরো বিশ্বের জন্যই ভালো সংবাদ’ বলে উল্লেখ করেন।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিয়াস বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এই সমঝোতাকে ‘নতুন দিগের সূচনা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে জন কেরি তা অস্বীকার করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘আশা করি, আমাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারে ছাড় দেয়নি।

সমঝোতার পর ইসরায়েল তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, সমঝোতায় তারা নিরাপদ বোধ করছে না।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটা খুব বাজে এক সমঝোতা। এখানে ইরান যা চেয়েছে, তা-ই দেওয়া হয়েছে।’

ছয় বিশ্বশক্তি-ইরান সমঝোতা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু গতকাল মন্ত্রিসভায় বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ভুল। তাঁর দেশ এই সমঝোতা চুক্তি মানবে না।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের অনেক বন্ধু ও মিত্র আছে। কিন্তু যখন কোনো ভুল হয়, তখন তা নিয়ে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব।’

শেয়ার করুন