রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনের ছক আঁকছে জামায়াত

0
100
Print Friendly, PDF & Email

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আন্দোলন জোরদার করতে আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে জামায়াত নেতারা। নেতাকর্মীদের মন চাঙা করে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় সফর করছেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ও অচল করার প্রস্তুতি নিতে দলটির কেন্দ্রীয় ফোরাম থেকে নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, এরইমধ্যে ১২টি অঞ্চলে ভাগ করে দেশের প্রতিটি জেলায় সফর করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমপক্ষে ৪৫ দিন আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে। এই ৪৫ দিন জীবনবাজি রেখে সরকার বিরোধী আন্দোলন করার ব্যাপারে নেতাকর্মীদের বলেছে কেন্দ্রীয় নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা শীর্ষ নিউজকে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেই আঠারো দলের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচির ঘোষণা আসবে মূলত; তা বাস্তবায়নের জন্যই জামায়াত নেতারা তৎপর। এক্ষেত্রে বিএনপির পাশাপাশি শক্তি দেখাবে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। যেসব স্থানে বিএনপি দুর্বল সেসব স্থানে জামায়াত উদ্যোগ নিয়েই মাঠে নামাবে বিএনপি কর্মীদের। তবে বিএনপি মাঠে নামুক না নামুক আঠারো দলের ব্যানার নিয়ে রাজপথ দখলে রাখতে চাইবে জামায়াত।

আন্দোলনের ব্যাপারে জামায়াত অতি উৎসাহী কেন জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য শীর্ষ নিউজকে বলেন, এ সরকার আমাদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাছাড়া বিএনপির আন্দোলনের একমাত্র ইস্যু নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা। আর জামায়াতের ক্ষেত্রে জড়িত অনেক ইস্যু। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দলের নিবন্ধন ফিরে পাওয়া, শীর্ষ নেতাদের থেকে শুরু করে সারাদেশে আটককৃত নেতাদের মুক্তি। সেই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতো থাকছেই। আমরা বিশ্বাস করি এ সরকারের পতন না ঘটাতে পারলে এসব সম্ভব নয়।

জামায়াতের আরেকটি সূত্র বলছে, এতদিন রাজধানী ঢাকায় আন্দোলন জোরদার করতে না পারলেও এবার ঢাকাতেও প্রস্তুত জামায়াত। তফসিল ঘোষণা পরবর্তী আন্দোলনে ঢাকা-শহরের প্রত্যেকটি স্পটে সক্রিয় ভূমিকায় থাকবে জামায়াত কর্মীরা। এজন্য সারাদেশ থেকে বাছাই করে আনা হবে দলের দক্ষ জনশক্তিদের।

জামায়াতের আন্দোলনের প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও অন্যতম নীতি নির্ধারক এএইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপির সাথে।

তিনি শীর্ষ নিউজকে বলেন, বিরোধীদলকে বাদ দিয়ে ও জনমত উপেক্ষা করে যদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে, সেটা হবে সরকারের একগুঁয়েমি ও হঠকারী সিদ্ধান্ত। একতরফা নির্বাচন জনগণ কোনভাবেই মেনে নিবে না। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের এ নির্বাচন প্রতিহত করবে। এখন আন্দোলন যা চলছে তফসিল ঘোষণার পর তা আরো কঠোর থেকে কঠোর হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন। এক্ষেত্রে নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত অফিসসহ রাজপথ, রেলপথ ও নৌ-পথ অবরোধের মাধ্যমে সারাদেশে অচল অবস্থা সৃষ্টি করবে। আর যদি সেক্ষেত্রে সরকার কোন বাধা প্রদানের চেষ্টা করে তাহলে সেটা হবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ ও ফ্যাসিবাদী আচরণ। ফ্যাসিবাদী আচরণের মাধ্যমে আন্দোলন দমানো যায় না বরং সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শেয়ার করুন