মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের কাজ শুরু কোথাও ছিল না উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা

0
59
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা সচিবালয়ে তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে কাজ শুরু করেছেন। পুরনোদের পাশাপাশি শপথ নেয়া নতুন মন্ত্রীরা গতকাল প্রথম দিনেই ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করে চেয়ারে বসেছেন। তবে নতুন মন্ত্রীদের বিষয়ে সচিবালয়ের কোথাও ছিল না উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা। পুরো পরিবেশ ছিল অনেকটাই সাদামাটা। এ ব্যাপারে একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সচিবালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সাধারণত নির্বাচনের পর যে মন্ত্রিসভা গঠন হয় সেটার গুরুত্ব থাকে অন্য রকম। নির্বাচনকালীন এ মন্ত্রিসভা নিয়ে আগ্রহ দেখা গেল না সচিবালয়ে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল সকালে সচিবালয়ে তার দফতরে যান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিতি সভায় যোগ দেন। মন্ত্রণালয় যেন রাজনৈতিক কার্যালয়ে রূপান্তর না হয়, সে জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের সবার সহযোগিতা চান। এর পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি জানান, তার বিশ্বাস বিরোধী দল নির্বাচনে আসবে। তিনি বলেন, আমরা সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, নিরপে নির্বাচন চাই। আমরা মনে করি বিরোধী দল অরাজক পরিস্থিতির দিকে যাবে না। কারণ হরতাল দিয়ে, অগ্নিসংযোগ করে ফল যে ভালো হয় না, তা বিরোধী দল উপলব্ধি করতে শুরু করেছে বলে আমি মনে করি। এই উপলব্ধি থেকে তারা নির্বাচনে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। তোফায়েল বলেন, আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। আমাদের মূল কাজ হবে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা, যাতে তারা দেশের মানুষকে একটি অবাধ নির্বাচন উপহার দিতে পারে। গতকাল সকালে আমেরিকান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোইজ মন্ত্রীর সাথে তার দফতরে সৌজন্য সাাৎ করেন। ভূমি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আমির হোসেন আমু প্রথম ভূমি মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন হবেই। কে এলো, না এলো তা বড় কথা নয়। নির্বাচনে কতজন ভোট দিলো, সেটাই বিবেচ্য হওয়া উচিত। এখনো আলোচনার দ্বার খোলা আছে। সংলাপের উদ্যোগ থাকবেই। ভূমি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে স্বাগত জানানো হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। একই সময় সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা ও মোস্তাফিজার রহমানকে বিদায় জানানো হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনে হতে হবে। সাংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি করা যাবে না। বিরোধী দল নির্বাচনে না এলে কী হবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান কাজ হবে একটা অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা। একই সাথে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা। নতুন এ মন্ত্রী মনে করেন, দেশ অচল হবে না, এগিয়ে যাবে। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে নির্বাচনে অংশ নিই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রওশন এরশাদও নিজ মন্ত্রণালয়ে অফিস করেছেন গতকাল। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা তার নেই; কিন্তু তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান। এ জন্য সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কত দিন থাকব জানি না। দীর্ঘ দিন থাকতে চাই না, নির্বাচন করা পর্যন্তযতটুকু সময় দরকার ততটুকুই থাকব। তিনি বলেন, অফিসের কাজ আগে কখনো করিনি, আমার ‘হাজবেন্ড’ যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন কিছু সেবামূলক কাজ করেছি। সংসদ সদস্যের কাজ করেছি, তবে তা ভিন্ন ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে এলাকায় যাওয়া-আসা করতে হবে। তারই ফাঁকে যতটা সম্ভব মন্ত্রণালয়ের কাজ করবেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম নিজ কে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন যেন সঠিকভাবে হয় সেটাই চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন যাতে করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য কাজ করবেন তিনি। তিনি জানান, এ মন্ত্রণালয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো যাতে করে পাস করা যায় সে জন্যও উদ্যোগ নেয়া হবে। পুরনো মন্ত্রীদের মধ্যে রেলের দায়িত্বে থাকা মো: মুজিবুল হক নির্বাচনকালীন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পেয়েছেন। আর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর আগের দায়িত্বের সাথে এবার যোগ হযেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। তারা দু’জনও সকালে নতুন অফিসে এসেছেন। হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমাদের মূল কাজ হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিøষ্ট সংস্থা ও বিভাগকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে সহযোগিতা দেয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু দলের প্রতিনিধি নিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠন করেছেন। নির্বাচন বা জাতিকে প্রভাবিত করে এমন কোনো কাজ আমরা করব না। মন্ত্রী বলেন, অতীতে বারবার আমাদের গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে এবং মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমরা আর সাংবিধানিকভাবে হোঁচট খাবো না। রাজনৈতিক-সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখব।

শেয়ার করুন