নির্বাচন ৫ জানুয়ারি

0
67
Print Friendly, PDF & Email

৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। ৬ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর বাছাই, ১৭ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার দফায় দফায় বৈঠক করে এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ দেয়ার জন্য ৭ পৃষ্ঠার যে বক্তব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে তাতেও এ তফসিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া এ তফসিলে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে নিশ্চিত করেছে কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র। তফসিল প্রস্তুত থাকলেও রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য দু’একদিন অপেক্ষা করছে ইসি। আজকালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তফসিল ঘোষণা করা হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তফসিল ঘোষণা নিয়ে রোববার দিনভর চলে নাটক। সারা দিন হয় দফায় দফায় বৈঠক। সন্ধ্যায় কয়েক দফা বৈঠকের পর তফসিল নিয়ে হয় কমিশনের সমঝোতা। চূড়ান্ত করা হয় নির্বাচনের দিনক্ষণ। রোববার তফসিল ঘোষণা করা হবে দিনভর ছিল এ গুজব। উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যমের শতাধিক কর্মী। সন্ধ্যায় সবাইকে হতাশ করে তফসিল ঘোষণা না করে পৌনে ৭টায় কমিশন সচিবালয় ত্যাগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদসহ অন্য চার কমিশনার। এ সময় সাংবাদিকদের সিইসি বলেন, আমরা সমঝোতার জন্য অপেক্ষা করছি। যথাসময়েই এ তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেয়া সিইসির ৭ পৃষ্ঠার ভাষণ কমিশন বৈঠকে বারবার পড়ে রোববার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত করা হয়। তফসিল ঘোষণা হচ্ছে এরকম গুজব ছিল রোববার সকাল থেকেই। অন্যান্য দিনের চেয়ে কমিশন সচিবালয়ের নিরাপত্তা গতকাল জোরদার করা হয়। সন্ধ্যায় অফিস ত্যাগের প্রাক্কালে সমঝোতার জন্য অপেক্ষা করছেন কিনা সিইসিকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে সমঝোতার কথাবার্তা হচ্ছে। দেশবাসী ও আমরা (কমিশন) সবাই সমঝোতার দিকে তাকিয়ে আছি। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন করা ইসির সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা হবে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

তবে কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাবেন সিইসি। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেবেন। এছাড়া বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কমিশনের প্রত্যাশা, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন, বিগত দিনের নেয়া ইসির পদক্ষেপ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রক্রিয়া এবং আসন্ন নির্বাচনে গণমাধ্যম ও জনগণের সহযোগিতা চাইবেন।

এর আগে রোববার দিনভর একের পর এক নাটক চলে। কমিশনাররা নিজেদের মধ্যে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথকভাবে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বিষয়টি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। কমিশনার ও কর্মকর্তারা এ সময় কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। সিইসিও কমিশনারদের সঙ্গে তিন দফায় বৈঠক করেন। প্রথম দফায় সিইসি কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ জাবেদ আলী ও মোঃ শাহনেওয়াজের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নির্বাচন তফসিল ঘোষণার বিষয়ে শুক্রবার মোঃ শাহনেওয়াজ গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দেন তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন সিইসি। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। দুপুরের পর নির্র্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারকের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন সিইসি। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফা বৈঠকে নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনো চাপ না এলে এ দিনক্ষণই ঘোষণা করবেন সিইসি। উল্লেখ্য ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

শেয়ার করুন