যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়

0
98
Print Friendly, PDF & Email

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে ২০ নভেম্বর ‘পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ, বিরোধী দলের প্রতি দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য উঠে আসে।

রোববার সচিবালয়ে এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইমসে এ প্রতিবেদন আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। এই প্রতিবেদন অসত্য ও আপত্তিকর। এটা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার প্রতিবেদন।’

আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাবে বলেও জানান ইনু।

২০ নভেম্বর প্রকাশিত এই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষেধাজ্ঞা ও নানা মহল থেকে চাপ আসতে পারে। এজন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি বন্ধ এবং গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করা শেখ হাসিনার জন্য অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। আর চলমান সঙ্কটের দায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়।’

সম্পাদকীয়তে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা ও মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন অভিযোগের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘কপিতয় বিরোধী দলের নেতা ও দুএকজন মানবধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে সরকারের সমালোচনা কিংবা ভিন্নমত পোষণ করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘ দিন ধরেই আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবধিকার সংস্থা কাজ করছে। তাদের প্রতি কোনো নিপীড়ন হয়নি।’

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সরকারি দলের প্রভাব বিস্তারের বিষয়েও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের সেই সম্পাদকীয়তে। বলা হয়েছে, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বেছে বেছে বিরোধী নেতাদের বিচার করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালকে সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করছে বলে মনে হয়।’

এ প্রসঙ্গে ইনু বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে নিয়ে এই উক্তি আপত্তিকর। আইনের দ্বারা বিচার বিভাগকে পৃথক করা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতিদের দিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত। এই ট্রাইব্যুনালে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক প্রবেশের সুযোগ আছে। অভিযুক্তদের আপিলের আবেদন, জামিনের সুযোগ আছে। আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থাই ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আপত্তি তুলতে পারেনি।’

এ সম্পাদকীয় যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যখন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছি আমরা, তখনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল। আমেরিকা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এত বছর পর যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, দোষ প্রমাণিত হচ্ছে, সাজা হচ্ছে তখন ঠিক আগের মত ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ধরেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশপ্রণোদিত।’

শেয়ার করুন