আ’লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতি শরিকদের জন্য ৮০ আসন

0
32
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগ। ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রায় ৮০টি আসনে সমমনাদের ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের। শরিকদের জন্য ৮০ আসন

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সমকালকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন তারা। তফসিল ঘোষণার পর দলেরপ্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামীকাল সোমবার তফসিল ঘোষণার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। সেটা হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেছেন, ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থিতার জন্য রেকর্ডসংখ্যক ২৬ হাজার ১১ জন দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ধানমণ্ডির কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করছেন অর্ধশতাধিক কর্মী। এ প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনার পর দল মনোনীত ৩০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

এ অবস্থায় আজ রোববার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে বসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আজকের এ বৈঠককে মূলত গণসাক্ষাৎকার হিসেবে দেখছেন দলের নীতিনির্ধারক নেতারা। দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে দ্রুতই পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ জন্য পার্লামেন্টারি বোর্ড সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কাজী জাফরউল্লাহ, ওবায়দুল কাদের, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদকে সার্বক্ষণিক ঢাকায় অবস্থান করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আজকের বৈঠকে যোগ দিতে বেশির ভাগ মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ইতিমধ্যে রাজধানীতে এসে পেঁৗছেছেন। তারা নিজেদের ভাগ্য জানার জন্য সর্বশেষ খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেকে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নানাভাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তিসংবলিত পুস্তিকা প্রকাশ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন। গত পাঁচ বছরে যাদের আমলনামা কালিমাযুক্ত তারা বেশ দুর্ভাবনায় রয়েছেন। তারাও নিজেদের ‘ফুলের মতো পবিত্র’ প্রমাণের চেষ্টা করতে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নেতা এবার দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। প্রতি আসনের জন্য গড়পড়তা প্রার্থী সংখ্যা ৮। তাদের বেশির ভাগই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। এ অবস্থায় একজনকে বেছে নেওয়া রীতিমতো দুঃসাধ্য।

তবে দলীয় সভানেত্রী মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সার্বিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে গুছিয়ে এনেছেন। তিনি এ নিয়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন। মাঠ পর্যায়ে কয়েক দফায় নিবিড় জরিপ কার্যক্রমও চালিয়েছেন।

এসবের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে নেতারা নিশ্চিত করেছেন। এ অবস্থায় কারা দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে এবারকার নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা আওয়ামী লীগের কাছে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাই নানামুখী হিসাব-নিকাশ মাথায় রেখে প্রার্থিতা বাছাই করা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

বিএনপি নির্বাচনে এলে নির্বাচনী জোট গড়বে আওয়ামী লীগ। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এই জোটে শামিল হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ ছাড়া সম্ভাব্য এই জোটে আসতে পারে জাতীয় পার্টি (জেপি), তরীকত ফেডারেশন, ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরও কয়েকটি দল।

এ বিষয় মাথায় রেখেই আসন ভাগাভাগির চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টির সঙ্গে এ ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিকে প্রায় ৭০টি আসনে ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টি (জেপি), তরীকত ফেডারেশন, ইসলামী ঐক্যজোটসহ অন্য সমমনাদের জন্য থাকবে পাঁচ থেকে ছয়টি আসন।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসুক বা না আসুক, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচনে লড়বে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ৩০০ আসনেই দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে রাখা হবে। নির্বাচনী জোট গঠনের পর সমমনাদের আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন।

এদিকে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেছেন, আগামী নির্বাচনে এককভাবেই লড়বে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপিবিহীন নির্বাচন হলেও ৭০টি আসনে ছাড় পাবে জাতীয় পার্টি। আর জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ১৪ দলের অন্য শরিকরা পাবে পাঁচ থেকে ছয়টি আসন। ১৪ দলের প্রার্থীদের প্রতীক হবে নৌকা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় খুব একটা সংকট হবে না। সে ক্ষেত্রে গত নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রায় সবাই মনোনয়ন পাবেন। বাদ পড়বেন হাতেগোনা ২০-৩০ জন। অবশ্য এর মধ্যে যে সব আসন সমমনাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে, সেই সব আসনের দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হবে।

কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে এলে এ হিসাব বদলে যাবে। সে ক্ষেত্রে গত নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ কমপক্ষে ১০০ থেকে ১২০ জন বাদ পড়বেন।

শেয়ার করুন