স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান!

0
44
Print Friendly, PDF & Email

শিগগিরই দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্য লন্ডনে নিজের সবকিছু এখন গুছিয়ে নিচ্ছেন। তার ফেরা নিয়ে দেশেও নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আইনি লড়াই করছেন আইনজীবীরা। এর সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অপপ্রচার এমন প্রমাণ দাঁড় করাতে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক ডকুমেন্টারি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও সিম্পুজিয়ামে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ আরটিএনএন- কে বলেন, ‘দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে ফিরবেন।’

তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের সঙ্গে সরকারের চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে জনগণের কাছে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রস্তুতির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

বিএনপি নেতারা জানান, তারেক রহমান আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে। তারা এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে উজ্জীবিত।

আদালতের রায়ের পর নির্দেশনা ছাড়াই সারা দেশে বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে এসে মিছিল করেছে। এরপর থেকেই তারেক রহমানকে দেশে আনার নানামুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

উল্লেখ্য, বিগত ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাতে ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসভবন থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। ওই রাতেই বিএনপির এক নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করে।

পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। এরপর একে একে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার ধারা অব্যাহত থাকে। এ পর্যন্ত ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি মামলা হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। তিনটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। দুটি মামলা বিচারাধীন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোতাহার হোসেন এ রায় দেন।

তারেক রহমানের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি একটি পয়সাও কোথাও পাচার করেননি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার ক্ষমতাসীন হবার পরই তারেক রহমানকে হেয় ও বিতর্কিত করতেই একের পর এক মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নাম না থাকলেও সরকার এফবিআই’র এজেন্ট মিস ডেবরা লেপরোভেটকে বিশেষ উদ্দেশ্যে এনে সাক্ষ্য দিয়েছিল।’

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আদালতে দেয়া সাক্ষে এফবিআই এজেন্ট, প্রধান সাক্ষী খাদিজা ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং বাদী কেউ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।’

তারেক রহমানের আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়ার দাবি, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের অর্থপাচার মামলা যে সাজানো ছিল এখন তা প্রমাণিত।’

এদিকে, বিশ্বখ্যাত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ইংরেজি ভাষায় একটি দীর্ঘ প্রামাণ্য চিত্র নির্মানণ করেছে। ‘এ ম্যান ক্যান চেঞ্জ এ নেশন’ শিরোনামের ওই তথ্যচিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় বৃটিশ চলচ্চিত্র অভিনেতা রবার্ট পেরেনো।

এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৭ জন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব তারেক রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী, সিনেটর, সংসদ সদস্য, মেয়র, চিফ জাস্টিস, অ্যাটর্নি জেনারেল ও শিক্ষাবিদরা।

৪০ মিনিট ব্যাপ্তির এই তথ্যচিত্রে তারেক রহমানের জন্ম, শৈশব, শিক্ষা ও রাজনীতি, উন্নয়ন ও তৃণমূলের কর্মকাণ্ড, সহনশীলতা, সংবেদনশীলতা ও সহমর্মিতা, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন নিয়ে তার কর্মযঙ্গ, তার ওপর নির্মমতা-অসুস্থতা ও প্রবাস জীবনের ওপর গঠনমূলক আলোকপাত করা হয়েছে।

তথ্যচিত্রটির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন মাহদী আমিন। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সালেহ শিবলী। পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছেন ছিলেন আশিক ইসলাম।

শেয়ার করুন