একতরফা নির্বাচনে দেশের পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ

0
42
Print Friendly, PDF & Email

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দারুণভাবে উদ্বিগ্ন দেশের সিনিয়র নাগরিকরা। সব পক্ষের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি না হওয়া এবং তা না করেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রধান বিরোধী পক্ষ থেকে তা প্রতিহতের ঘোষণায় তাদের এই উদ্বেগ। বিশিষ্টজনরা এক কথায় বলেছেন, একতরফা নির্বাচন হলে দেশে বড় ধরনের সংঘাত তো বটেই, যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা চিন্তাও করা যাচ্ছে না। তারা পরিস্থিতি উত্তরণে উভয় পক্ষকেই সংযত ও সমঝোতায় পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, যদি দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি না করা হয় তাহলে সম্ভব্য যে পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তাতে কেবল দেশের জনগণই নয়, বড় রাজনৈতিক দলগুলোকেও চড়া মূল্য দিতে হবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি, উপদেষ্টা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সিনিয়র আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিশিষ্টজনরা উভয় পক্ষকে সতর্ক করে আরও বলেন, একতরফা নির্বাচন হলে তা দেশের প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র এবং জনগণের জান-মাল ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্যে মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দেবে। গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাবে। এমনকি তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। তারা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বলেন, একপক্ষীয় নির্বাচন হলে, দেশের ভেতরে ও বাইরে তা কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। প্রধান বিরোধী দলকে ছাড়া ছোট ছোট দল নিয়ে নির্বাচন করা হলে দেশের সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার কোনো মূল্য নেই, বরং সে নির্বাচন দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবে। দেশ যাবে চরম অনিশ্চয়তার দিকে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বি চৌধুরী : সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সরকার যদি সব দলকে আস্থায় না এনে একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয় তাহলে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় ও নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার ধারণ করবে। যা দেশের জন্য হবে ভীষণ ক্ষতিকর। আর এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ইতিহাসের কাছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে।
অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, মনে হচ্ছে বিএনপি ছাড়া একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার উঠেপড়ে লেগেছে। যদি সেটা হয়, তাহলে তা হবে একদলীয় ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়া, যেটা পঁচাত্তর পূর্ববর্তী সময়ে হয়েছিল। এটা করা হলে তা দেশে গ্রহণযোগ্য হবে না, বিদেশেও না। গণতান্ত্রিক কোনো দেশই এটা সমর্থন করবে না। তিনি আরও বলেন, এটা করা হলে তা সামাজিক শান্তি বিনষ্টকারী কাজ হবে। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী জেদ ধরেছেন নিজে আবার ক্ষমতায় আসীন হবেন এবং একদলীয় ব্যবস্থার দিকে যাবেন। তবে তারমধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হলে পরিস্থিতি অবশ্য অন্যরকম হবে। তা না হলে অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যাবে দেশ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষা। জাতীয় অগ্রগতি বিঘিœত হবে। রফতানি স্থগিত হবে। সম্পদ ও প্রাণহানি হবে। সবমিলিয়ে দেশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।
ব্যারিস্টার রফিক উল হক : সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেছেন, একতরফা নির্বাচন হলে দেশে ও বিদেশে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সংঘাতের কথা আর কী বলব, এটা তো বহুবারই বলেছি- দেশে সংঘাত অনিবার্য।
অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, যদি এক পক্ষেরই নির্বাচন হয়, তাহলে তো আর নির্বাচনেরই প্রয়োজন পড়ে না। তাকে নির্বাচন বলা যাবে না। আর এ ধরনের নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায় না। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন একপক্ষীয় হোক, তা কেউ চাইবে না। সবাই মিলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। আর এর জন্য প্রয়োজন সমঝোতা। সবাইকে সমঝোতায় আসতে হবে যাতে একাধিকপক্ষের নির্বাচন হয়। এটা নিশ্চিত না হলে বা সব পক্ষের অংশগ্রহণের নির্বাচন না হলে প্রথমত তা উপেক্ষিত হবে। এর বাইরে পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। ‘একাধিকপক্ষের নির্বাচনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেশের এই সিনিয়র নাগরিক বলেন, বিগত নির্বাচনে প্রধান যে দুটি পক্ষকে দেখা গেছে, সরকারি পক্ষের বাইরে তাদের বোঝানো যায়। যদি বলা হয় যে, অনেক দল তো অংশ নিল। কিন্তু বড় পক্ষ বাদ দিয়ে ছোট ছোট দল নির্বাচনে অংশ নিলে লাভ নেই। এটা গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে না। প্রধান দু’পক্ষ থাকতে হবে নির্বাচনে। তিনি বলেন, মূল কথা হল গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই আর এরজন্য এই মুহূর্তে প্রয়োজন সমঝোতা। একপক্ষীয় নির্বাচন কেউই চাইবে না।

শেয়ার করুন