দেশ অচলের নীলনক্সা জামায়াত বিএনপির

0
110
Print Friendly, PDF & Email

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর টানা অবরোধ ডেকে দেশ অচল করে দেয়ার জন্য নীলনক্সা প্রণয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। এ জন্য তারা রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রভাবশালী একাধিক দেশের বিশেষ মহলের মদদে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সহায়তায় ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করার প্রক্রিয়া চলছে। দেশ অচল করে দেয়ার জন্য যে হুমকি-হুংকার ছোড়া হয়েছে সে ব্যাপারে কি ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। এই নীলনক্সার অংশ হিসেবেই ঢাকা-চট্টগ্রামের সীতাকু- এলাকায় টানা জামায়াতÑশিবিরের সহিংস সন্ত্রাসের তা-বলীলা চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
দেশ অচল করার ব্যাপারে যেই ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে তার মধ্যে আছে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো, ব্যাপক বোমাবাজি ও ককটেল নিক্ষেপ, রেললাইন উপড়ে ফেলা ও রেলের বগিতে আগুন দেয়া, গাছ উপড়ে ফেলে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি, থানা, ফাঁড়ি, আগ্নেয়াস্ত্র লুট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ, হত্যাকা- ঘটানো, ব্যাপক নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্বাধীনতার পক্ষের বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের ওপর হামলা করে হত্যাকা- ঘটানোর চেষ্টা করা হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ করে বঙ্গভবন, গণভবন, বিচারপতিদের বাসভবন, মন্ত্রী, এমপিদের বাসভবন, আদালতপাড়া, বিদ্যুত কেন্দ্র, টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশন, ওয়াসা, গ্যাস ফিল্ডে ধ্বংসাত্মক কর্মকা-, বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালানো হতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত তথ্যে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নেত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার বিশ্বস্ত বিএনপি ও জামায়াতের নেতা এবং যুদ্ধাপরাধীদের ঘনিষ্টজনদের মাধ্যমে দেশ অচল করে দেয়ার ব্যাপারে দেশের বিভাগ, জেলা, থানা ও শহর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম শুক্রবার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশ অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আর্থিক সহায়তা এবং মদদ দিতে এগিয়ে আসছে। পৃথিবীর একটি পরাশক্তি দেশের রহস্যজনক ভূমিকার ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছে গোয়েন্দা সংস্থা।
সূত্র জানান, দেশ অচল করার নীলনক্সার অংশ হিসেবেই ঢাকা-চট্টগ্রামের সীতাকু-ের অংশে সহিংস সন্ত্রাসের তা-বলীলা চালানো হচ্ছে। গত দেড় মাসের মধ্যে ১৫ দিনের বেশি সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে চার শতাধিক গাড়িতে আগুন, ভাংচুর, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে আগুন, মারধর করে হতাহতের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। জামায়াতÑশিবিরের এ ধরনের সহিংস রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটানোর সময়ে তাদের দুই জামায়াত নেতা হত্যাকা-ের শিকারের পরিণত হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা রবিবার যে হরতাল ডেকেছে তা পূর্ব পরিকল্পিত এবং দেশ অচল করে দেয়ার জন্য নীলনক্সাই সাজানো ঘটনা বলে গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত তথ্যে উদ্ঘাটিত হয়েছে।
দেশ অচল করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আর্থিক সহায়তায় ধর্মের নামে প্রচারণায় গঠিতসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও), গ্রামীণ ব্যাংক, গণস্বাস্থ্য, ডেসটিটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিডিআর হত্যাকা-ের সাজাপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্য, শেয়ারবাজারের ক্ষতিগ্রস্তদের উস্কানি দিয়ে সংগঠিত করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠনসহ উগ্র মৌলবাদী ধর্মীয় কয়েকটি দল ও সংগঠনকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দেশ অচল করে দেয়ার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা ও থানা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন ও টহল দেয়া শুরু করবে। দেশের স্থলপথ, জলপথ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যত গর্জে তত বর্ষে না।’ জামায়াতÑশিবিরের মেরুদ- আগেই ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণা হলেও তারা আগের মতো আর নাশকতা চালাতে পারে না। বিএনপিও যদি এ ধরনের পথ অনুসরণ করে তার পরিণতিও একই ধরনের হতে পারে। সরকারের কঠোর নির্দেশ অনুযায়ী মানুষের জানমাল রক্ষার ব্যাপারে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

শেয়ার করুন