যে ভাষণে চোখ মুছলেন ক্রিকেটবোদ্ধারা

0
83
Print Friendly, PDF & Email

সেই ১১ বছর বয়স থেকে শুরু। ৪০ বছরের জীবনের ২৯টি বছরই শচীন টেন্ডুলকার কাটিয়েছেন ক্রিকেট নিয়ে। যে ক্রিকেট তাঁর ধ্যান-জ্ঞান, যেটিকে ছাড়া এক মুহূর্ত ভাবতে পারেন না, সেই ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কটা ‘অতীত’ হয়ে গেল আজ! লিটল মাস্টারের ভেতরটা কতটা হাহাকার করছে, বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই হাহাকার আর শূন্য যেন প্রবল বেগে বেরিয়ে আসতে চাইল তাঁর বিদায়ী অনুষ্ঠানে।
দুই যুগের বেশি সময় ধরে বোলারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়া টেন্ডুলকার আজ নিজেই কেঁপে উঠলেন। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠেই কথা বলার শুরু করলেন। কিন্তু পারলেন না। ভক্তদের মুহুর্মুহু করতালিতে আটকে গেল তাঁর কথা। বেরিয়ে এলো তাঁর ভেতরের চিত্রটা। টেন্ডুলকার বললেন, আপনারা এমন করলে আমি আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ব।’ বারবার কণ্ঠ ভেঙে আসছিল ক্রিকেট কিংবদন্তির। গলা শুকিয়ে আসছিল। কথা আটকে যাচ্ছিল বলে বেশ ক’বার পানিও খেলেন। এর মাঝেই বলে গেলেন নিজের কথা। তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যাদের অবদান রয়েছে, তাঁদের সবার নামের তালিকা ছিল টেন্ডুলকারের হাতে। কেউ যেন বাদ পড়ে না যায়!
টেন্ডুলকার শুরুটা করেন বাবা রমেশ টেন্ডুলকারকে স্মরণ করে। ১৯৯৯ সালে তাঁকে হারিয়েছেন। লিটল মাস্টার জানান, প্রতিমুহূর্তই বাবাকে অনুভব করেন তিনি। এরপর একে একে পরিবারের সব সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, কোচ, সাবেক ও বর্তমান সতীর্থ, ফিজিও, চিকিত্সক মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সবার অবদান স্বীকার করেন টেন্ডুলকার। সবশেষে ধন্যবাদ দেন গোটা বিশ্বে তাঁর ভক্তদের। জানান, ভক্তদের ভালোবাসার কারণেই এ পর্যায়ে আসতে পেরেছেন তিনি।
বিদায়ী বক্তৃতায় বাবার প্রসঙ্গ তুলে যথেষ্টই আপ্লুত টেন্ডুলকার। ১৯৯৯ সালে বাবাকে হারানোর পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপেই যে তিনি তাঁর প্রয়াত বাবাকে মিস করেন, সেটা জানিয়েছেন তিনি। বলতে ভোলেননি প্রতিটি বড় ইনিংস খেলার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে বাবাকে খোঁজার ওই মুহূর্তটির কথা।
ছোটবেলায় যথেষ্ট দুষ্টু ছিলেন তিনি। বেড়ে ওঠার পথে তাঁর রত্নগর্ভা মাও যে বিশেষ অবস্থানে আছেন—জানিয়েছেন সেটাও, ‘ছোটবেলায় খুব দুষ্টু ছিলাম। আমাকে সামলানো ছিল যথেষ্ট কঠিন। সেই কঠিন কাজটিই মা করে গেছেন হাসি-মুখে। ক্রিকেটার টেন্ডুলকারের জন্য মায়ের প্রার্থনাও যে ছিল বিরাট কিছু, বিদায়ী বক্তৃতায় তা আবেগময় কণ্ঠে জানিয়েছেন তিনি, ‘তাঁর প্রার্থনা ও কল্যাণ কামনাই আজ আমাকে নিয়ে এসেছে এই জায়গায়।’

শেয়ার করুন