মহাজোটে নেই: এরশাদ

0
62
Print Friendly, PDF & Email

এতদিন ধরে ‘ছাড়ব-ছাড়ব’ বলে আসা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবার বলেছেন, মহাজোটে তার দল আর নেই। নির্বাচনের আগে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দেয়া এরশাদ শনিবার এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন। তবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির যুব সংগঠন যুব সংহতির সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা আর মহাজোটে নেই।

“আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের, যিনি মহাজোট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন।”

বিএনপির আপত্তির মধ্যে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান মন্ত্রিসভার সব সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

এরপর অন্য মন্ত্রীরা সচিবালয়ে গেলেও বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদেরকে আর সচিবালয়ে দেখা যায়নি। এরশাদের ছোট ভাই কাদের ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহজোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ৩০টি আসনে বিজয়ী হয় জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। মন্ত্রিসভায় একটি পদ পায় এরশাদের দল।

মহাজোটে মূল্যায়ন হচ্ছে না অনুযোগ করে গত দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গ ছাড়ার কথা বলে আসছিলেন এরশাদ। তবে পরে আবার অবস্থান থেকে সরে আসতেও দেখার গেছে তাকে।

নির্দলীয় সরকার না হলে নির্বাচনে যাবে না বলে বিএনপি হুমকি দেয়ার পর এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ইঙ্গিত নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করে।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার নতুন নির্বাচনী জোট গড়ার ঘোষণা দেন এরশাদ এবং তাতে বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা, কাদের সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ এবং আ স ম রব নেতৃত্বাধীন জেএসডি থাকছে বলেও জানান তিনি।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি
বিএনপিসহ সব দল না গেলে নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে এরশাদ জানিয়ে এলেও তাতে সংশয় রয়েছে আন্দোলনরত বিরোধী দলের নেতাদের।

বিএনপির এক সময়ের নেতা নাজমুল হুদা বলেছেন, এটা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ‘পাতানো’ খেলা। বিএনপিকে বাদ দিয়ে ‘একতরফা’ নির্বাচনের জন্যই এটা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচনা সভায় দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীর সমালোচনাও করে আসছেন তাদের নেতৃত্বে গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতা হারানো এই সামরিক শাসক।

“এরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দুই দলই অভিশাপ। এই দুই রাহুর হাত থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে হবে,” বৃহস্পতিবারের আলোচনা সভায়ও বলেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে দুই প্রধান দলের বিপরীত অবস্থানে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসতে সম্প্রতি চিঠিও লিখেছিলেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তাতে সাড়া না পেয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন