আবারও টেলিফোন ‘নাটক’

0
96
Print Friendly, PDF & Email

দেশের প্রধান দুই দলের সংলাপের আয়োজন নিয়ে ফের শুরু হয়েছে টেলিফোন নাটকীয়তা। গত ২৬ অক্টোবর সংলাপের আমন্ত্রণ জানাতে ফোন করে বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অভিযোগ নাকচ করে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয় বেগম জিয়াকে ফোন দেয়া হয়নি, তার (খালেদা জিয়া) লাল টেলিফোনটি অনেকদিন ধরেই অচল। পরে অবশ্য দুই নেত্রীর আলাপন হয় মোবাইল ফোনে।

প্রায় ৩৭ মিনিটের আলাপে তখন প্রধানমন্ত্রী হরতাল প্রত্যাহার করে বিরোধীদলীয় নেতাকে আলোচনার জন্য গণভবনে আমন্ত্রণ জানান। তবে সে ডাকে সাড়া না দিয়ে খালেদা জিয়া জানান, হরতাল কর্মসূচি শেষ করে আলোচনা হবে। কিন্তু তারপর কে কাকে ডাকবে তাদের সে নিয়েই চলছে বিতর্ক।

দুই নেত্রীর টেলিফোনে কথা বলা নিয়ে নাটকীয়তা শেষ না হতেই এবার দুই দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিবের ফোনে কথা বলা নিয়ে শুরু হয়েছে আরেক নাটকীয়তা। সংলাপ নিয়ে কথা বলতে উদ্যোগ নিয়েও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে কোনো ‘সাড়া’ পাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে ফখরুল অভিযোগ করেছেন কয়েকদিন ধরে আশরাফের মোবাইলে ফোন করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তার অভিযোগ নাকচ করছেন আশরাফ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলছেন তাদের মধ্যে কথা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশানের আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম রাজিয়া ফয়েজের জানাজায় অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘১০ নভেম্বরের পর থেকে এ পর্যন্ত সৈয়দ আশারফের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে সাড়া পাচ্ছি না।’

আজ (শুক্রবার) আশরাফের সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘সাড়া পাচ্ছি না।’

এদিকে অবশ্য সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আজ ফখরুলের ফোন পাইনি। সংলাপের বিষয়ে আমি আগেও তাকে ফোন দিয়েছি, তিনিও আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমরা সব সময় আলোচনা করতে চাই। তিনি যদি এখনই ফোন করেন আমি ওনার ফোন ধরবো। তবে আমার সঠিক নাম্বারে ফোন করতে হবে। আলোচনার জন্য যদি ওনি প্রস্তাব দিয়ে থাকেন, এ ব্যাপারে ওনার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময় আমরা নির্ধারণ করবো।’

টেলিফোনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বাংলামেইলকে বলেন, ‘আশরাফ ও ফখরুলের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে তা এখনও জানি না।’

কয়েকদিন ধরে চেষ্টা করেও সৈয়দ আশরাফকে ফোনে পাননি বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যর্থ হন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালে দুই মহাসচিবের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় এবং ফখরুল বিএনপি চেয়ারপারসন প্রস্তাবিত নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে সৈয়দ আশরাফকে জানান।

শেয়ার করুন