তারেকের রায় নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ, হরতালের চিন্তা

0
112
Print Friendly, PDF & Email

অর্থপাচার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হলে টানা হরতাল দেয়ার কথা ভাবছে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে আগামী মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবারের কথা ভেবে রেখেছেন দলের নীতি নির্ধারকরা।

জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সিঙ্গাপুরে বিশ কোটি টাকারও বেশি পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমান এবং তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। চার বছরেরও বেশি সময় শেষে এই মামলা রায়ের পর্যায়ে চলে আসার পর উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বিএনপিতে।

এরই মধ্যে অর্থপাচারের আরেক মামলায় তারেক রহমানের ছোটো ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে ২০১১ সালের জুনে। এরপর সিঙ্গাপুর থেকে কোকোর পাচার করা বিশ কোটি টাকারও বেশি দুই দফায় ফিরিয়ে এনেছে দুদক।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। তারপর তারেক রহমান দলের হাল ধরবেন, এমনটি ভেবেই আগাচ্ছিল বিএনপি। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হলে তারেক রহমান আগামী দুটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কারণ সংবিধানের ৬৬ ধারার (১) দফায় (ঘ) উপদফায় বলা হয়েছে, কেউ নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারী অপরাধে কারও দুই বছরের সাজা হলে তিনি মুক্তি লাভের পাঁচ বছর পর্যন্ত নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এখন দোষী সাব্যস্ত হলে সাত বছরের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে চলে গেলে প্রধানমন্ত্রী পদে অন্য কাউকে বেছে নিতে হবে বিএনপিকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

এই অবস্থায় তারেক রহমানের মামলাটি আদালতের পাশাপাশি রাজপথেও মোকাবেলার চেষ্টা করবে বিএনপি। তারেক রহমানকে সরকার রাজনৈতিক কারণে সাজা দিয়েছে, এমন বক্তব্য দিয়ে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

জানা গেছে, সোমবার থেকে টানা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার চিন্তা-ভাবনা করলেও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইয়ের ঢাকা সফর উপলক্ষ্যে সোমবার দিনটিকে ছাড় দেয়ার কথা ভাবছে দলটি। জানতে চাইলে দলের চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সে ক্ষেত্রে তারা মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিনের হরতাল দেয়ার কথা ভাবছেন।

শনিবার রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আদালত সরকারের নির্দেশ মতো তারেক রহমানকে সাজা দিতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না রায়ে কী হবে। তবে সেই রায় বিএনপি ও দেশের জনগণ প্রত্যাখান করবে।

কিন্তু আদালতের রায় তো মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই, এ ক্ষেত্রে সাজা হলে হরতাল করে কী লাভ হবে, জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সরকার ষড়যন্ত্র করে আমাদের নেতাকে সাজা দেয়ার চেষ্টা করবে, আর আমরা মেনে নেবো, সেটা হবে না’। তিনি বলেন, ‘সরকার তাড়াহুড়া করে তারেক রহমানের মামলার রায় সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে তারা তারেক রহমানকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এটা সরকারের কূট কৌশলেরই অংশ’।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান অবশ্য মনে করেন, অর্থপাচার মামলায় রায় তারেক রহমানের পক্ষেই যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি তিনি (তারেক রহমান) বেকসুর খালাস পাবেন। তবে বিষয়টি আদালতের উপর নির্ভর করছে।

তারেক-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পাইয়ে দিতে নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা ঘুষ নেন। সিঙ্গাপুরে একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকা লেনদেন হয়। ওই অবৈধ টাকার কিছু অংশ তারেক রহমান ভিসা কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছেন। এই কাজে তারেক রহমানের সহযোগী ছিলেন তাঁর বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন।

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এই দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার এই মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন। চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে তিনি উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে ওই দেশে যান। পরে তাঁর জামিন বাতিল করে এই মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন দেওয়া হয়। তিনি না আসায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে পলাতক ঘোষিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাঁর পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিল না। তবে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের আইনজীবীরাই তারেক রহমানের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।

শেয়ার করুন