বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায় আগামীকাল রোববার। পাশাপাশি দু’একদিনের মধ্যেই ঘোষণা হবে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মতিউর রহমান নিজামীর আপিল আবেদনের রায়।
গুরুত্বপূর্ণ রায় দুটি ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো হয়েছে -দাবি করে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রায়ের পর বিরোধীজোট হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে কৌশলগত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। শনিবার পাঠানো ওই নির্দেশনামূলক বার্তায় বলা হয়েছে, বিরোধীজোটের নেতা-কর্মীরা সমবেত হবার আগেই যেন খবরটি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে চলে আসে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) শহীদুল হক বলেন, এধরণের নির্দেশনা ‘রুটিনওয়ার্ক।’ তবে, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পুলিশ করনীয় ঠিক করে থাকে। এজন্যে রোববার থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আরো সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর তারেক-মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেন এবং অর্থ আত্মসাতের মামলা করে দুদক। চার্জশিট দাখিলের ১ বছর পর ২০১১ সালের ৮ আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠন হয়। যুক্তিতর্ক শেষে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোতাহার হোসেন রায় ঘোষণার জন্যে রোববার দিন ধার্য করলেন।
ক্যন্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যু কেন্দ্র স্থাপনের কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। পরে টাকাগুলো সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটিব্যাংক এনএ’তে নিজের নামের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন মামুন। এই টাকা থেকে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা ভাগ নেন।
উল্লেখ্য, এর আগে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে পৃথক একটি অর্থ পাচারের মামলায় ২০১১ সালে সাজা দেওয়া হয়। বড় ছেলে তারেক রহমানের রায় ঘোষণা হলে এটি হবে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রায়।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ্ বলেছেন, “শিগগিরই বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় দেবে বলে শুনেছি। আমরা সেই রায়ের অপেক্ষায় আছি। রায়ের পরই চলমান আন্দোলনে যোগ হবে নতুন মাত্রা।”
এর আগে গত ৫ নভেম্বর তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা থেকে চিঠির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ঘুষের অর্থ লেনদেনের মামলার আসামি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের ইস্যু করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ঢাকার জাতীয় অপরাধ প্রতিহত কমিটি থেকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) পাঠানো হয়েছে। তাই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিকভাবে ব্রিটিশ সরকারকে অনুরোধ করা হলো।







