শনিবার মহাজোট ছাড়ছেন এরশাদ!

0
122
Print Friendly, PDF & Email

আগামী শনিবারই ক্ষমতাসীন মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। পার্টির চেয়ারম্যান সেদিন জাতীয় যুবসংহতির সম্মেলনে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় ছাত্র সমাজে যোগদান উপলক্ষে বনানীর তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অচীরেই জোট-মহাজোটের বাইরে বিকল্প জোট ঘোষণা দেয়া হবে।’ এছাড়াও তিনি দুই-এক দিনের মধ্যেই মহাজোট ছাড়বেন বলেও সাফ জানিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এরশাদ বিকল্প ধারার সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করেন।

সূত্রে জানা গেছে, একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী ছাড়াও প্রগ্রেসিফ ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ কোরেইশী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ার হোসনে মঞ্জুসহ ইসলামী কিছু সমমনা দলের সঙ্গেও এরশাদের আলোচনা চলছে। এ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়েছে। তাই খুব শিগগিরই বিকল্প এই জোটের ঘোষণা দেবেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তবে এর আগে ১৬ নভেম্বর ডিপ্লোমা ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় যুবসংহতির সম্মেলনে ক্ষমতাসীন মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দেবেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই জাতীয় পার্টির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইস্যুতে মন কষাকষি চলছিল। তারই বহিঃপ্রকাশ ১৬ নভেম্বর ঘটতে যাচ্ছে।

এদিকে জাতীয় পার্টির অনেক নেতা মহাজোট ছাড়তে নারাজ। তবে অধিকাংশ নেতাই মহাজোটের বাইরে বিকল্প শক্তি হিসেবে মাঠে নামতে রাজি বলেও জানা গেছে। অবশ্য পার্টির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তারা বলেছেন, পার্টির চেয়ারম্যান যা ভালো বুঝবেন তাই করবেন।

অন্যদিকে এরশাদ দলীয় নেতাকর্মীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মহাজোটে থাকার পক্ষে কেউ মত দিলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। পার্টির চেয়ারম্যানের এমন ঘোষণার পর নেতাকর্মীরাও কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়িাম সদস্য এসএমএম আলম বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিকল্প জোট গঠনের কথা ভাবছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগামী ১৬ নভেম্বর জাতীয় যুবসংহতির সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিদ্ধান্ত জানাবেন। আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যক্রমে মহাজোটে থাকার আর প্রশ্নই আসে না।’

মহাজোট থেকে বেরিয়ে বিকল্প জোট গঠন করে কতটুকু লাভ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘সময় সব কথা বলে দেবে। এখনতো আমরা আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছি।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিকল্প জোট গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে। যে কোনো দিন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বিকল্প জোটের ঘোষণা দেবেন।’

তিনি মহাজোট ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দিন থেকেই মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা দেবেন। তবে ১৬ নভেম্বর ঘোষণা দেবেন কি না তা এই মুহূর্তে আমি বলতে পারব না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একক নির্বাচনে যাওয়ারও সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শেয়ার করুন