বিতর্কিত মোল্যা নজরুলকে ডিএমপিতেই পদায়ন

0
37
Print Friendly, PDF & Email

ঘুষ নেয়ার ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রয়েছে। টাকাও ফেরত দিয়েছেন ব্যবসায়ী সৈয়দ আবিদুল ইসলামকে। ওই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে বুধবার মামলাও হয়েছে। কিন্তু বাদ দেয়া হয়েছে মূলত অভিযোগ ওঠে যার বিরুদ্ধে সেই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা মোল্যা নজরুল ইসলামকে। শুধু তাই নয় তার একদিন পরই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) করা হয়েছে তাকে। বৃহস্পতিবার ডিএমপির এক আদেশে এ তাকে এ পদায়ন করা হয় বলে সূত্র ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছে।

মোল্যা নজরুল ইসলাম ডিবি পুলিশের ডিসি পদে থাকতে ব্যবসায়ী সৈয়দ আবিদুল ইসলামের কাছ থেকে এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক এ বিষয়ে লিখিতাকারে পুলিশ সদরদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে মোল্যা নজরুলকে ডিবি ডিসি পদ থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়। পরে এ বিষয়ে দুদক ও ডিএমপির পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়। অভিযোগের তদন্ত চলাকালে মোল্যা নজরুল বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবসায়ী আবিদুল ইসলামের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে সাংসদ কবিরুল হকের মধ্যস্থতায় আবিদুল ইসলামকে ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করেন। পাশাপাশি ডিএমপি ও দুদকের তদন্ত কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ডিএমপি ও দুদকের পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের তালিকা থেকে রেহাই পান বিতর্কিত মোল্যা নজরুল।

বুধবার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তবে মামলার অভিযোগ থেকে বাদ দেয়া হয় মোল্যা নজরুলকে। এর আগে ডিএমপির তদন্ত প্রতিবেদনের কোথাও মোল্যা নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘মোল্যা নজরুলের ঘুষ নেয়ার অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। তিনি দোষী না নির্দোষ সেটা তদন্তেই উঠে এসেছে। এনিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। পুলিশ প্রশাসন তার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা একান্ত তাদের ব্যাপার। এনিয়ে মন্তব্যের কিছু নেই।’

সাংসদ কবিরুল হক অভিযোগ করেছিলেন, গত ৬ এপ্রিল ব্যবসায়ী আবিদুলকে ধরে এনে নির্যাতন করেন ডিবির তৎকালীন ডিসি নজরুল ইসলাম। পরদিন এক কোটি টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসনাত দু’টি বেসরকারি ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে ঘুষের ওই টাকা তোলেন।

ঘুষের এক কোটি টাকা হস্তান্তরসংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজসহ মোল্যা নজরুলের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জমা পড়লে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। মোল্লা নজরুল ইসলামকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বরখাস্ত অথবা প্রত্যাহার না করে ১ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) থেকে ডিএমপির প্রোটেকশন বিভাগে বদলি করা হয়। এ সময় পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ ছিলেন দেশের বাইরে। তিনি ফিরে ঘটনা জেনে নজরুলকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্তির নির্দেশ দেন। তার পর থেকে তিনি ওএসডি হিসেবেই ছিলেন।

শেয়ার করুন