নয়া জোটের উদ্যোগ

0
64
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনী জোট গড়ার উদ্যোগ নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জেএসডিসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল অংশ না নিলে আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে তারা। নতুন জোট গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে বুধবার রাতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সর্বদলীয় সরকার গঠন, মন্ত্রীদের পদত্যাগসহ চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে নিজেদের কর্মকৌশল গ্রহণ করতেই এ বৈঠক করেছেন তারা। এ ছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয় নিয়েও তারা আলোচনা করেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা বর্জনের বিষয়টি বৈঠকের আলোচনায় আসেনি।
মহাজোটের শরিক হয়েও প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীন এরশাদ। সব দল অংশ না নিলে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এরই মধ্যে নতুন নির্বাচনী জোট গড়ার বৈঠক করলেন এরশাদ।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের কয়েক শরিককেও নতুন জোটে টানার চেষ্টা চলছে বলে জোট উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন কাদের সিদ্দিকী ও আবদুল মান্নান। তাদের বৈঠক ‘সফল’ না হওয়ায়ই নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রূপরেখা অনুযায়ী নির্বাচন হলে বিএনপি-জামায়াতবিহীন সে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে নতুন জোট।
বুধবারের আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলো ছাড়াও এলডিপি, গণফোরাম, দুই জোটের বাইরে থাকা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে বিকল্প জোট গড়ার চেষ্টা চলছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের জোটে আসার বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে জোট উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা যায়। বিএনপির একটি অংশকে বের করে এনে এ জোটভুক্ত করার চেষ্টাও রয়েছে। বিএনপির কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে এ জোট তাদের সমর্থন দিতে পারে।
গত ২২ আগস্ট দলের প্রেসিডিয়াম সভায় এরশাদ জানিয়েছিলেন, ধর্মভিত্তিক দলগুলো বিকল্প জোট গড়ে নির্বাচন করবে। এরই অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলাম ও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তিনি। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি দলকে জোটে টানার চেষ্টা করছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রভাবশালী এক প্রেসিডিয়াম সদস্য সমকালকে জানান, নতুন জোট সফল হলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচন করতে পারে।
তবে এসব তথ্য অস্বীকার করেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি জানান, নতুন বিকল্প জোট গড়ার চেষ্টা চলছে। তার অংশ হিসেবেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সমকালকে জানান, বি. চৌধুরীর বাসায় একটি দাওয়াতে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে এরশাদসহ অন্যদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অবশ্য নির্বাচন যদি অনুষ্ঠিত হয় এবং জেএসডি যদি সে নির্বাচনে যায়, তাহলে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে যাবে। আমরা সে চেষ্টাই করছি।

শেয়ার করুন