‘পতাকাবাহী গাড়ি ছেড়ে সাধারণের কাতারে আসুন’

0
53
Print Friendly, PDF & Email

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরও মন্ত্রিসভায় থাকা, জাতীয় পতাকাবাহী সরকারি গাড়ি ব্যবহার ও সচিবালয়ে অফিস করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা।

তারা বলেছেন, সংবিধানের ৫৮’র ১ এর ‘ক’ ধারা অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর কেউই আর মন্ত্রী হিসেবে দাবি করতে পারেন না। তারা এখন আর মন্ত্রী নন। তারা রাষ্ট্রীয় কোনো ফাইলে সাক্ষর করতে পারেন না। পতাকা ও সরকারি গাড়ি ছেড়ে তাই সাবেক মন্ত্রীদের সাধারণ মানুষের কাতারে আসা উচিত।

বুধবার বিকেলে প্রাইমনিউজ.কম.বিডির সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন, অধ্যাপক পিয়াস করিম, বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট মাহফুজ উল্লাহ ও আইনবীদ শাহদীন মালিক ।

অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর তারা সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতিকে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন। বিষয়টি আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট করা আছে। পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতিকে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেই তা গৃহীত হবে। অর্থাৎ পদটি শূন্য হবে।

পিয়াস করিম বলেন, সংবিধানের স্পষ্ট এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে মঙ্গলবার আইনমনন্ত্রীর বক্তব্য শুনে প্রশ্ন জেগেছে, কীভাবে তিনি বিগত ৫ বছর সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

তিনি বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া সাবেক মন্ত্রীদের পতাকা ও সরকারি গাড়ি ছেড়ে সাধারণ মানুষের কাতারে আসা উচিত- যদি দেশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চান, আবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চান।

বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট মাহফুজ উল্লাহ বলেন, সাংবিধানিক দিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করা মাত্রই তা কার্যকর হওয়ার কথা। এটা গ্রহণ করা বা নাকচ করার কোনো সুযোগ সংবিধানে রাখা হয়নি। অতএব, বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট, পদত্যাগকারীরা এখন আর সরকারের মন্ত্রী নন। কোন ক্ষমতাবলে তারা সরকারি গাড়ি, বাড়ি, পতাকা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবহার করছেন, সরকারি ফাইলে সাক্ষর করছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।

বিশিষ্ট আইনবীদ শাহদীন মালিক প্রাইমনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, কোনো মন্ত্রী যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন, তখনই তার পদ শূন্য হবে। পদত্যাগীদের পদ এখন শূন্য বলেই আমি মনে করি। সংবিধান অনুযায়ী তাদের পতাকা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেয়া অবৈধ ও অন্যায়।

শেয়ার করুন