ইনুর সরকারি জীবন বৃত্তান্তে মুজীবের ‘স্বৈরশাসন’ নিয়ে যা আছে !

0
44
Print Friendly, PDF & Email

তথ্যমন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মন্ত্রী হিসেবে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর জীবন বৃত্তান্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সরকার ‘স্বৈরশাসন’ চালিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ঘুরে করে দেখা গেছে, এতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তথ্যমন্ত্রীর দুটি জীবন বৃত্তান্ত পরিবেশন করা হয়েছে। বাংলা জীবন বৃত্তান্তে বঙ্গবন্ধু সরকারের ব্যাপারে কোনো বিরূপ মন্তব্য নেই। কিন্তু ইংরেজি জীবন বৃত্তান্তে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরশাসন’ ও ‘হত্যা’র মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ মে হাসানল হক ইনুকে শাসক দল আওয়ামী লীগের কৃষক ফ্রন্ট জাতীয় কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেন এবং দায়িত্ব দেন।

ইনু কৃষক লীগের দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষক, কৃষিকর্মী এবং গ্রামীণ শ্রমিকদের সমাজতান্ত্রিক কৃষি বিপ্লবের জন্য সংগঠিত করতে শুরু করেন। যা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু ও শাসক দল আওয়ামী লীগের সাথে গুরুতর আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কৃষক লীগের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক কৃষি বিপ্লবের পথে চলা অব্যাহত রাখতে গোটা সংগঠনটি শাসক দল আওয়ামী লীগ থেকে বেড়িয়ে গিয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের আলোকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য নতুন দল জাসদ গড়ে তুলে।

জীবন বৃত্তান্তে আরো বলা হয়েছে, ইনু প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাসদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠিত হলে তিনি এর সদস্য নির্বাচিত হন।

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রতি ১৯৭২-‘৭৪ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘স্বৈরশাসন’ চালিয়েছিল। এ কারণে জাতীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্য নির্বাহী সদস্য হিসেবে ইনু সেসময় কৃষক, কৃষিকর্মী, গ্রামীন মজুর ও সাধারণ জনগণকে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণ-আন্দোলনে’ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
(As the General Secretary of Jatio Krishok League and Member of Central Executive Committee of Jatiya Samajtantrik Dal-JASOD played important role to organize the peasants and agriculture workers and rural workers and general masses in vigorous mass movement against the autocratic rule of ruling Awami League Government towards Socialist Revolution from 1972 to 1974. )

ইনুর জীবন বৃত্তান্তে পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার সব বিরোধী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ও জনগণের অধিকার হরণ করার পর জাসদের গণ আন্দোলন স্বশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়। এ জন্য জাসদ জনগণের সেনাবাহিনী হিসেবে ‘গণবাহিনী’ গঠন করলে এর উপনেতা হিসেবে ইনু ১৯৭৪-‘৭৫ সালে জাসদের নেতাকর্মীদের উপর স্বশস্ত্র হামলা এবং তাদের হত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জীবন বৃত্তান্তে আরো বলা হয়েছে, গণবাহিনীর উপনেতা হিসেবে ইনু ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তৎকালীন সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ ও গণ জাগরণ তৈরি করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু প্রাথমিক বিজয় অর্জন করলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে এই বিদ্রোহ এদেশের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল ও প্রতিক্রিয়াশীল মিত্রদের হস্তগত হয়ে ব্যর্থ হয়। পরে বহু সৈনিক নিহত এবং সামরিক জান্তার গোপণ বিচারে ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ ও গণ জাগরণের নেতা অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল তাহেরকে ফাঁসি ও ইনুকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

অন্যদিকে বাংলা ভাষায় লিখিত জীবনবৃত্তান্তে ১৯৭২-‘৭৫ পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রী ইনুর রাজনৈতিক ভূমিকার কথা অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ননা করা হয়েছে। যাতে বঙ্গবন্ধু সরকার সম্পর্কে ইংরেজি জীবন বৃত্তান্তে দেয়া বক্তব্য চেপে যাওয়া হয়েছে। বাংলা জীবনবৃত্তান্তে বলা হয়েছে, ইনুকে ‘১৯৭২ সালের মে মাসে জাতীয় কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক দায়িত্ব প্রদান’ করা হয়। তিনি ‘১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর গঠিত দেশের প্রথম বিরোধী দল জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ভূমিকা পালন’ করেন।

গণবাহিনীতে ভূমিকা পালনের ব্যাপার এতে বলা হয়, ইনু ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানে গনবাহিনীর উপ-প্রধান ও কর্ণেল তাহেরের সহকারী হিসেবে ভূমিকা পালন’ করেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান থেকে পূর্ব বাংলাকে আলাদা করে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের জন্য অবিসংবাদিত ভূমিকা পালন করায় দলমত নির্বিশেষে সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার স্থপতি স্বীকৃতি দিয়েছেন।

তবে স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে প্রথম সাড়ে তিন বছর সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সঙ্কট ও ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করতে গিয়ে সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তার সরকারের সময় মতপ্রকাশ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলকে অনেকেই ‘স্বৈরশাসন’ হিসেবে আখ্যা দেন।

তবে এই আখ্যাকে বিরোধী পক্ষ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের অপপ্রচার দাবি করে সব সময় নাকচ করে আসছে আওয়ামী লীগ।

এখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের তথ্যমন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধু আমলকে ‘স্বৈরশাসন’ বলায় আওয়ামী লীগের দাবি কিছুটা হলেও কমজোরি হলো।

ইংরেজি জীবন বৃত্তান্তের লিঙ্ক: http://www.moi.gov.bd/minister.php

শেয়ার করুন