শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, শতাধিক আহত

0
61
Print Friendly, PDF & Email

ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কোনাবড়ি ও সাভারের হেমায়েতপুরে শ্রমিকরা ফের বিক্ষোভ করেছে। এসময় শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান করে মিছিল করে এবং কয়েকটি কারখানায় হামলা করে ভাঙচুর চালায়। শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সড়িয়ে দিতে ধাওয়া করে। এতে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এখনো থেমে থেমে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে বলে জানা গেছে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

সাভার: মজুরি বোর্ড প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে পোশাক শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে সাভারে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ চলছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত শতাধিক আহত হয়েছেন।

সকালে হেমায়েতপুর এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ছাড়াও টিয়ার শেল ও বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে বলে জানা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে। পরে তারা পার্শ্ববর্তী অবনী নীট ও পর্দা কনজ্যুমারে হামলা চালিয়ে সেখানকার শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে যোগ দিতে বাধ্য করে। এরপর শ্রমিকরা হেমায়েতপুর-সিঙ্গাইর সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

গাজীপুর: সকাল থেকে কোনাবাড়ি এলাকার শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবিতে কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে তাদের সঙ্গে অন্য কারখানার শ্রমিকরা যোগদিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার যমুনা কমপ্লেক্স, ফারিয়া নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবিতে কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে তাদের সঙ্গে অন্য কারখানার শ্রমিকরা যোগদিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলামেইলকে বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনারোধে কারখানা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

শেয়ার করুন