ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করা হবে : তাজুল

0
45
Print Friendly, PDF & Email

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায় যে কোন দিন হতে পারে মর্মে দেয়া ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আসামীপক্ষ আবেদন করবে বলে জানিয়েছেন নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।

তাজুল ইসলাম জানান, হরতালের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি থাকার কারণে আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হন না। অথচ ট্রাইব্যুনাল এত বড় একটি মামলায় যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষ না করেই রায়ের জন্য দিন ঠিক করলেন। এটা সুষ্ঠ বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, আগামীকাল আসামীপক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হবে আদালতের দেয়া আদেশ বাতিল করে নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেয়ার জন্য। আশা করি ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি ভালোভাবে দেখবেন। একই সাথে আগামীকাল আসামীপক্ষ থেকে এ মামলার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদেরকে জানানো হবে।

তাজুল বলেন, হরতালের সময় সুপ্রিম কোর্ট যেখানে বন্ধ থাকে। কোন মামলা পরিচালিত হয়না। সেখানে ট্রাইব্যুনালের কি এমন হতো নিজামীর মামলার মতো এতো বড় মামলার কার্যকক্রম অসমাপ্ত অবস্থায় শেষ করে দিয়ে রায়ের জন্য অপেক্ষমান না রাখলে।

বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আসামীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় এ আদেশ দেন।

নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না করেই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামান (সিএভিতে) রাখা হয়।

হরতালের কারণে নিজামীর পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী গত তিনদিনের মতো আজও আদালতে উপস্থিত না হয়ে মামলার কর্যনক্রম মূলতবির আবেদন জানান। আদালত নাকচ করে দিয়ে মামলার কার্যক্রম শেষ ঘোষণা করে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখে দেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ বুধবার শেষ বারের মতো সুযোগ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু আইনজীবীরা আদালতে না আসায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না করেই রায়ের জন্য সিএভিতে রাখে ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের পর গত ৭ নভেম্বর প্রথমদিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন।

আসামীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এক আদেশে ৩ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিন প্রসিকিউশনকে এবং ৬, ৭, ১০ ও ১১ নভেম্বর মোট চারদিন আসামিপক্ষকে তাদের যুক্তি উপস্থাপনের সময় বেধে দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

নিজামীর পক্ষে ট্রাইব্যুনালের আদেশে ৪ জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদসহ মোট ২৬ সাক্ষী তাদের জবানবন্দি পেশ করেছেন। আসামীপক্ষ এসব সাক্ষিদের জেরা করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ১৬টি অভিযোগ এনে গত বছরের ২৮ মে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট ১৬টি ঘটনায় এ অভিযোগ আনা হয়।

এর আগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

শেয়ার করুন