প্রধানমন্ত্রীর বড় ভাই এরশাদ গ্রেপ্তার ও দল ভাঙার আতঙ্কে

0
86
Print Friendly, PDF & Email

২০০৭ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে অনেক নাটকীয়তার পর যোগ দেন সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। মহাজোট সরকার গঠন করলে ছয় মাসের জন্য হলেও ফের রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েশ ব্যক্ত করেন পতিত রাষ্ট্রপতি এরশাদ। কিন্তু তাকে রাষ্ট্রপতি করা হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচনের সময় তার দলের প্রাথীদের আসন দেয়া হয়নি, তার দলের সদস্যদের চুক্তি অনুযায়ী মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়নি, এমন নানা অভিযোগ সরকার গঠনের মাস কয়েক পর থেকে করতে থাকেন এরশাদ মহাজোটের বিরুদ্ধে। মহাজোট ছাড়বার ঘোষনাও দেন অসংখ্যবার। পাশাপাশি ‘ছোট বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিপদে বড় ভাই হিসেবে পাশে থাকার প্রতিজ্ঞাও’ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসবই ছিল এরশাদের নাটক। রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্যই তিনি ক্ষণে ক্ষনে এসব নাটক করেছেন। সবশেষ নাটক করেন ‘সর্বদলীয় সরকারে’ জাতীয় পার্টির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরির বিষয়ে। তবে পারেননি। ‘সর্বদলীয় সরকার’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হিসাব মিলছে না এরশাদের। দরকষাকষি করেও তিনি কোনো সমঝোতায় আসতে পারেননি। এখন তিনি পুরনো মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ফের ভাঙার আশংকাও করছেন তিনি। ঠিক যেভাবে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ভেঙেছিল এরশাদের জাতীয় পার্টি।

এরশাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, মহাজোট সরকারের আমলেও এরশাদের পুরনো কোনো মামলা খারিজ হয়নি। তিনি মনে করছেন, মহাজোট ছেড়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিলে, বা নির্বাচনে অংশ না নিলে পুরনো কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হতে পারেন।

গতকাল সোমবার বেসরকারি টিভি স্টেশন বাংলাভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এরশাদ নিজেও গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জেলে যাওয়ার চেয়ে সম্মান বড়। সব দলের অংশ নেয়া ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার চেয়ে জেলে যাওয়া অনেক ভালো।’

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের বৈঠকে যোগ দিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) নির্বাচনে অংশ নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এরশাদ কোনো কারণে মহাজোট ছাড়লে সেই ‘শূন্য স্থান’ পূরণের লক্ষ্যেই জেপির এই আগাম ঘোষণা বলে মনে করছেন এরশাদ। তিনি এটাকে সরকার ও তার মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন।

তথ্যমতে, ১৯৯৬ সালে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সমর্থনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে যোগাযোগমন্ত্রী করা হয়। পরে ১৯৯৮ সালে এরশাদ ওই সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দলের সঙ্গে একমত হননি। তিনি মন্ত্রিসভায় থেকে যান। এরপর তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) নামে নতুন দল গঠন করেন। এখন আবার সে অবস্থার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন এরশাদ। এছাড়া জিএম কাদেরসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের নিয়েও সন্দিহান এরশাদ। জাপার মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার মহাজোটে জেপির অন্তর্ভুক্তি জাতীয় পার্টির জন্য ভাবনার জায়গাটি আরও বিস্তৃত করেছে বলে জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন