নির্বাচনে দলের নির্দেশ না মানলেই বহিস্কার

0
62
Print Friendly, PDF & Email

দলের সমর্থন না পেলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনছেন আগ্রহী প্রার্থীরা। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে দল বহিস্কার করতে পারবে, এমন অঙ্গীকারনামার উল্লেখ আছে মনোনয়নপত্রে।   

আর এই বহিস্কারের জন্য দল থেকে কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন হবে না বলেও মনোনয়নপত্রে উল্লেখ আছে।

রবিবার থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রি করছে আওয়ামী লীগ। হরতালের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে এই কার্যক্রম। প্রথম দুই দিনেই বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১৫৪টি। ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই কার্যক্রম চললেও তা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। কাজেই তিনশ আসনের বিপরীতে দুই থেকে তিন হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি হতে পারে বলে মনে করছে।

মনোনয়ন না পেয়ে অন্যরা যেন নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে কাজ না করে, সে জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রির আগেই এই সাবধানবাসী জানিয়ে রাখছে ক্ষমতাসীন দল। আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতেই এই বিধান করা হয়েছে। তাই এখন থেকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সাহস দেখাবেন না।

মনোনয়ন চেয়ে করা আবেদনপত্রের অঙ্গীকার নামায় বলা আছে, ‘প্রার্থী মনোনয়নে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রার্থী হৃষ্টচিত্তে ও বিনা প্রতিবাদে মেনে নেবে। মনোনয়ন না পেলে ওই প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়ে ওই আসনে কিংবা অন্য কোথাও আওয়ামী লীগের পক্ষে আন্তরিক হয়ে কাজ করবেন। কোনো অবস্তাতেই এই নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। এমনকি দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে গিয়ে কোনো কাজ করবে না। এই অঙ্গীকারের ব্যত্যয় হলে ওই প্রার্থী তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কৃত বলে বিবেচিত হবেন’। 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের উৎসাহিত করা হবে না। এরই ধারাবাহিকতায় মনোনয়নপত্রেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে, দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এতে দলীয় প্রার্থীকে অনেক সময় হারতে হয়েছে। এ সুযোগে এগিয়ে গেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। তাই এবারের নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন