সেনাবাহিনীর সহায়তায় অন্তর্বর্তী সরকারকে মানুষ হয়তো স্বাগত জানাবে : এরশাদ

0
106
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারে থাকলেও নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে যাচ্ছে না এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। কারণ রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচনে সুফল পাওয়া নিয়ে দলটির নেতারা আশাবাদী নন। তাঁরা মনে করছেন, প্রধান বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছেন না এরশাদ।

এদিকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাপা চেয়ারম্যান বলেছেন, সেনাবাহিনীর সহায়তায় অন্তর্বর্তী সরকারকে মানুষ হয়তো স্বাগত জানাবে। কারণ সরকার যা করছে তাকে কোনোভাবেই গণতন্ত্র বলা যায় না।

জাপার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য জানা গেছে। তাঁরা বলছেন, নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তবে এই মুহূর্তে সব দল নির্বাচনে না গেলে সর্বদলীয় সরকারেও তাঁরা যেতে চান না। এখন দলীয় প্রধান কী সিদ্ধান্ত নেন সেদিকে তাকিয়ে আছেন তাঁরা।

জাপার একটি সূত্রে জানা যায়, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এরশাদের ভাই জি এম কাদেরকে সর্বদলীয় সরকারে নিতে চাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট নেতারাও তাতে রাজি। তাই বিতর্ক এড়াতে তাঁরা মিডিয়াকে এড়িয়ে চলছেন। কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমিন হাওলাদার ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ গতকাল সোমবার তাঁর বারিধারার বাসভবনে দুটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দেশের যে মানুষগুলো আমাকে এত ভালোবাসে, তাদের বিপক্ষে আমি যাব না। কাউকে ক্ষমতায় বসানোর সিঁড়ি হব না। সরকার যতই চাপ দিক না কেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকব না।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের পথে যাচ্ছে। মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করার কথা বলছে। এ অবস্থায় নির্বাচন হয়তো হবে। তবে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।’

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘সেনাবাহিনী হয়তো সরাসরি আসবে না। কারণ তারা এলে কিভাবে আবার ফিরে যাবে সে প্রশ্ন রয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এলে মানুষ হয়তো স্বাগত জানাবে। সরকার যা করছে তাকে কোনোভাবেই গণতন্ত্র বলা যায় না। গণতন্ত্রচর্চার নামে গণতন্ত্রের কবর রচনার চেষ্টা চলছে।’

এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ৯৯ ভাগ নেতা-কর্মী চাচ্ছেন আমি মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসি। আমি বেরিয়ে আসব। এককভাবে নির্বাচন করব। তবে বিএনপি নির্বাচনে না এলে সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরাও সে ধরনের পাতানো নির্বাচনে যাব না।’ জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে কারো জীবনে নিরাপত্তা নেই। ঘরে-বাইরে একই অবস্থা। জীবনের নিরাপত্তা না থাকলে নেতারা ভোট করবেন কেমন করে? বিরোধীদলীয় নেতা নির্দলীয় সরকারের একটি ফর্মুলা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও সর্বদলীয় সরকারের ফর্মুলা দিয়েছেন। সর্বদলীয় সরকার সংবিধানে নেই। তবে সব দল রাজি হলে দেশের বৃহৎ স্বার্থে সেটা গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা তো হবে না। বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, তারা নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। শেখ হাসিনাকে কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রী মানবে না।

এরশাদ বলেন, ‘আমার শাসনামলে পুলিশের গুলিতে দুজন মারা গিয়েছিল। সেটা নিয়ে কী লঙ্কাকাণ্ড করেছে বিরোধী দলগুলো। নূর হোসেন কার গুলিতে মারা গেছে তা আজও পরিষ্কার নয়। অথচ তা নিয়ে মায়াকান্না এখনো চলছে। অথচ এখন হরহামেশাই মানুষ মারা যাচ্ছে। গণতন্ত্র বিপন্নের পথে। কঠিন সময় পার করছে দেশের মানুষ। দুই পক্ষই অনড়। সমঝোতার পথ দেখছি না। সংলাপ নয়, সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জ্বালাও-পোড়াও যেভাবে হচ্ছে, তাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে পারে না। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু গণতন্ত্র যে কী অবস্থায় রয়েছে, মানুষ তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।’

এদিকে এরশাদের এমন ঘোষণা নিয়ে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এরশাদ জীবনের শেষ সময়ে এসে নেতা-কর্মীদের মতামতের বাইরে যাবেন না। কারণ অধিকাংশ নেতা মনে করেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠিক হবে না। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সর্বদলীয় সরকারে যাব না। এখনো পর্যন্ত এটাই সিদ্ধান্ত।’ তিনি এ বিষয়ে বেসরকারি টিভিকে দেওয়া এরশাদের সাক্ষাৎকার দেখার কথা বলেন। আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ফকির আশরাফ বলেন, ‘স্যারের আজকের (গতকাল সোমবার টিভিকে দেওয়া) সাক্ষাৎকারে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। স্যার এ মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না।’ মহাজোটে থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময় হলেই সব দেখতে পারবেন।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘জাপা চেয়ারম্যান আগেও অনেক কথা বলে শেষ পর্যন্ত রাখতে পারেননি। এখন দেখার পালা, তিনি আসলে শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেন।’

শেয়ার করুন