তফসিল ঘোষণার পর টানা অবরোধ

0
57
Print Friendly, PDF & Email

‘বৈরী পরিস্থিতিতে’ নেতাদের আত্মগোপনে রেখেই সর্বাত্মক আন্দোলনের কৌশল নিয়েছে বিএনপি। তাদের ধারণা, এ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নেতারা প্রকাশ্যে রাজপথে নেমে এলে তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। ফলে আন্দোলনের এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়বে। এ কারণেই গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টিতে নীতিগতভাবে ‘সম্মতি’ দিয়েছেন দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। তবে আত্মগোপনে থাকলেও শীর্ষ নেতারা যেন তৃণমূলের সঙ্গে ‘সার্বক্ষণিক’ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন এবং আন্দোলনের মাঠে তাদের পরিচালনা করেন, চেয়ারপারসনের সেই নির্দেশনাও রয়েছে। এ ছাড়া সরকার সর্বদলীয় সরকার গঠনের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া ‘একতরফা’ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে সেদিন থেকেই তা প্রতিহত করতে টানা অবরোধ ডাকার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি ও ১৮ দল। বিএনপি ও জোটের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর
রহমান সোমবার সমকালকে বলেন, নেতাদের আত্মগোপনে যাওয়াটা সাময়িক কৌশলের অংশ। তবে সব নেতাই আত্মগোপনে যাননি। অনেক নেতা এখনও কর্মীদের মধ্যে আছেন। তারা আন্দোলনে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীনরা সর্বদলীয় সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে সংলাপের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। তবে আমরা এখনও আশা করি, তারা শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সমঝোতার দিকে এগিয়ে আসবেন। তিনি বলেন, সরকার সমঝোতার দিকে না এসে ‘একতরফা’ নির্বাচন করতে চাইলে ১৮ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ অচল করে দেবে। সরকারকে নির্দলীয় ব্যবস্থায় নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আ স ম হান্নান শাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, নেতাদের গ্রেফতারের কারণে কর্মী-সমর্থকরা আরও বেশি সক্রিয়ভাবে রাজপথে নামছেন।
১৮ দলের অন্যতম শরিক এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ সমকালকে বলেন, নেতারা আত্মগোপনে থাকলেও আন্দোলন ক্রমে জোরদার হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে রয়েছে সশস্ত্র পুলিশ। তাদের রাষ্ট্রীয় শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে হলে প্রয়োজনীয় কৌশল নিতেই হবে। আত্মগোপনে থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখা এ সময়ের কৌশল।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে এখনই পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার সমঝোতার পথে না এসে তফসিল ঘোষণা করলেই সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হবে।
বিএনপি এবং ১৮ দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া মনোবল অটুট রেখেছেন। তিনি দল ও জোটের নেতাকর্মী এবং পেশাজীবী নেতাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়া কৌশলগতভাবে নেতাদের আত্মগোপনে থেকে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন গতিশীল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যে ক’জন নেতা এরই মধ্যে কারাগারে গেছেন, তাদের মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালাতেও দলীয় আইনজীবীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তফসিল ঘোষণা করলেই টানা অবরোধ :বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতা না করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে টানা অবরোধ ডাকবে বিরোধী দল। রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথের সর্বাত্মক অবরোধের মাধ্যমে দেশ অচল করে দেওয়ার কর্মসূচি নেবে তারা। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলেও জানান নেতারা। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষণা করেছিলেন, দাবি না মানলে হরতালের পর লাগাতার অবরোধ, ঘেরাও, অসহযোগের কর্মসূচি দেওয়া হবে। ওই ঘোষণা অনুসারে তিন দফা টানা হরতালের পর সামনের সপ্তাহে আরও এক দফা একই কর্মসূচি পালনের পর ১৮ দলীয় জোট অবরোধের দিকে যাবে বলে জানা গেছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি পয়েন্ট অব নো রিটার্নে যাবে। দলের আত্মগোপনে যাওয়া নেতারাও ওই সময়ে প্রকাশ্যে রাজপথে নেমে আসবেন। চূড়ান্ত ওই আন্দোলনে খালেদা জিয়াও রাজপথে নামবেন বলে সূত্র জানায়।
সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান :এদিকে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর শুরু হওয়া নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠন প্রক্রিয়াকে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের যে প্রক্রিয়া সরকার শুরু করেছে, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’ তিনি বলেন, এখনও সময় আছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে যদি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন করার উদ্যোগ নেন, তাহলেই কেবল চলমান সংকটের সমাধান হবে। এতে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। নির্দলীয় সরকারের দাবি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকারের চিন্তাকে ‘অশুভ’ অভিহিত করে তিনি বলেন, সরকার ওই পথে হাঁটলে তার পরিণতি শুভ হবে না।
সরকার শেষ পর্যন্ত একদলীয় নির্বাচনের পথে গেলে বিরোধী দলের কর্মসূচি কী হবে_ জানতে চাইলে রিজভী বলেন, দলের নীতিনির্ধারকরা বসে চূড়ান্ত কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

শেয়ার করুন