পদত্যাগপত্র জমা দিলেই মন্ত্রিত্ব শেষ : সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অভিমত

0
85
Print Friendly, PDF & Email

মন্ত্রীদের পদত্যাগ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরও মন্ত্রীরা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে পদত্যাগী মন্ত্রীদের স্বাক্ষরে কাজ করা নিয়ে আইনী জটিলতার আশংকা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রীদের মন্ত্রিত্ব শেষ হয়েছে। তারা বলেন, পদত্যাগের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেয়া কিংবা পদত্যাগের অভিপ্রায় প্রকাশের পরপরই মন্ত্রীরা শপথের আওতা থেকে বেরিয়ে গেছেন। তারা এখন মন্ত্রী নন।

উল্লেখ্য, সোমবার প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অপর সকল মন্ত্রী পদত্যাগের তথ্য সরকারিভাবে ঘোষণা করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ খন্দকার মাহবুব হোসেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল শীর্ষ নিউজের সাথে আলাপকালে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেয়া কিংবা পদত্যাগের অভিপ্রায় প্রকাশের পরপরই মন্ত্রীদের মন্ত্রিত্ব চলে গেছে।

তারা বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ছাপানো সংবিধানেরই ৫৮ অনুচ্ছেদের দফা ১ এর ‘ক’ উপ-অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে- যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগ পত্র প্রদান করেন।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের বক্তব্য অন্য কোন অনুচ্ছেদ দ্বারা খর্ব বা রহিত করা হয়নি। অন্য আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়ে এই অনুচ্ছেদই প্রাধান্য পাবে।

এদিকে একজন সিনিয়র মন্ত্রীর কাছে সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তাতে তারিখ উল্লেখ করিনি। পদত্যাগ পত্রে তারিখ উল্লেখের পর থেকেই এটি কার্যকর হবে।

পদত্যাগী এ ব্যাখ্যা সম্পর্কে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদটি অত্যন্ত পরিষ্কার। এটি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যার কোন সুযোগ নেই। এখানে পদত্যাগপত্রে তারিখ উল্লেখ করা না করার কথা বলা হয়নি। তারিখ উল্লেখ না করলেও পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়ে যাবে। তারিখ উল্লেখ না করে পদত্যাগপত্র ঝুলিয়ে রাখার কৌশলটি অপকৌশল হিসেবেই ধর্তব্য হবে। তাছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরকারিভাবে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা প্রকাশ করেছেন বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।

এদিকে পদত্যাগের পরদিন মঙ্গলবারও মন্ত্রীরা তাদের কর্মস্থলে এসেছেন। আর এ নিয়ে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কর্মকর্তাদের অনেকেই মন্ত্রীদের নির্দেশে কাজ করতে আগ্রহী নন বলে জানান। তাদের মতে, পদত্যাগের পর মন্ত্রীরা এখন অবৈধ। অবৈধ মন্ত্রীদের নির্দেশে কাজ করলে ভবিষ্যতে আইনী জটিলতায় পড়ার আশংকা রয়েছে।

একই অভিমত জানালেন আইন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, পদত্যাগের পর মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব অবৈধ হয়ে গেছে। আজ থেকে অবৈধ মন্ত্রীর স্বাক্ষরে কোন কাজ কিংবা তাদের নির্দেশ পালন করলে তা অবৈধ হবে। এ জন্য জন্য ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা ছাড়াও মামলা-মোকদ্দমায় জড়াবার আশংকা রয়েছে।

শেয়ার করুন