প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে এখন কোন মন্ত্রী নেই

0
65
Print Friendly, PDF & Email

পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয়ে গেছে বলে মত দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এবং অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তারা বলেছেন, ঠিক এই মুহূর্তে দেশে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কোন মন্ত্রী নেই। বাংলাভিশনের টকশো ফ্রন্টলাইনে আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এই মত দেন। সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় দুই আলোচক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ৪২ বছর ধরে আমাদের দেশে মন্ত্রীদের পদত্যাগের ঘটনা তেমন একটা ঘটেনি। এ কারণে পদত্যাগ নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে। আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য শুনেছি। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের ইচ্ছানুযায়ী পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন। অনিচ্ছুক হলে গ্রহণ করবেন না। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলি এটা সংবিধানের বক্তব্য নয়। সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদ একেবারেই স্পষ্ট। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেই তার পদ শূন্য হয়ে যাবে। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা না করার কোন এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই। এটা কোন সরকারি চাকরি নয়। এটা সাংবিধানিক পদ। সব সাংবিধানিক পদেই পদত্যাগের এটাই নিয়ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সাংবিধানিকভাবে শাহদীন মালিকের বক্তব্য সঠিক। সংবিধান অনুযায়ী দেশে এখন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কোন মন্ত্রী নেই। কিন্তু সংবিধানের এ ব্যাখ্যা তো সরকার মানে না। তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী যা চান তাই সংবিধানের ব্যাখ্যা। অন্য কোন ব্যাখ্যা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে সোহেল তাজ পদত্যাগ করলেও দুই বছর তার পদত্যাগপত্র কার্যকর করা হয়নি। তার জন্য বেতন পাঠানো হয়েছে। ‘শান্তি চাই, প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের ব্যাপারে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে ড. শাহদীন মালিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। উনি পদত্যাগ করলেই ৯০ শতাংশ সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আর এটা তো দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী তো বড় জোর ৬ সপ্তাহের জন্য পদ ছাড়বেন। এসময় তার দলের অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী হলেও হয়তো বিএনপি তা মেনে নেবে। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর কথা বিশ্বাস করা উচিত। উনি যেন উনার কথা রাখেন। অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বহাল থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা দেশের কেউ বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, আমরা সবাই হরতালের সহিংসতার কথা বলছি। কিন্তু কেন এই সহিংসতা তা কেউ বলছি না। সহিংসতা অবশ্যই নিন্দাযোগ্য। আমরা তা বন্ধেরও দাবি জানাই। কিন্তু বিরোধী দলকে অন্য কোন কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেয়ার দাবিও আমাদের জানাতে দিতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তার অধীনেও বিএনপি নির্বাচনে যাক তা চায় না। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পিয়াস করিমের বাসায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান দুই আলোচক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশী এবং ভারতীয় হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। মতিউর রহমান চৌধুরী টকশো শেষ করেন এই বলে, আমাদের আত্মসমালোচনাও করতে হবে। এই সমাজের বিবেকবান কিছু মানুষ কথা বলেন কিছু প্রাপ্তির আশায়, মনোজগতের তাগিদে নয়।

ওদিকে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। এরপর তাদের পদে বহাল থাকা এবং সুযোগ-সুবিধা নেয়া অবৈধ এবং বেআইনি। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি- ক) তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।’ তিনি বলেন, যেহেতু মন্ত্রীরা এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্টের নিকট পেশ করার জন্য পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছেন সেহেতু স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের মন্ত্রী পদ শূন্য হয়ে গেছে। সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও এমকে আনোয়ারকে আইন লঙ্ঘন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ব্যারিস্টার খোকন। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলা অবস্থায় স্পিকারের পূর্ব অনুমতি না নিয়ে, সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া তাদেরকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, শাহজাদা তালুকদার প্রমুখ। তবে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র কার্যকরের ব্যাপারে ভিন্নমত দিয়েছেন। তিনি বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দিলেই মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয়ে যাবে না। প্রধানমন্ত্রী যদি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠান তাহলেই তাদের পদত্যাগ কার্যকর হবে। যেখানে সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে সেখানে এ ধরনের পদত্যাগ কেন- বিবিসি বাংলার এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিনি। তবে আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রী যে সর্বদলীয় সরকারের কথা বলেছেন সে সরকার গঠনের জন্যই প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

শেয়ার করুন