মন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া অসাংবিধানিক

0
59
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা অসাংবিধানিক এবং অবৈধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র দাখিলের পর থেকেই রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ গ্রহণ করা অবৈধ হয়ে গেছে। সংবিধানের ৫৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রীর পদ শূন্য হবে, যদি কোনো মন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেন।’

পদত্যাগপত্র দেয়ার পর রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্ব পালন করলে তা সংবিধান অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর কোনো মন্ত্রীকে কোনো রকম রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেবেন না। কারণ সাংবিধানিকভাবে তারা এখন আর মন্ত্রী না।’

প্রধানমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিতে আহ্বান জানান খোকন।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, এমকে আনোয়ারসহ পাঁচ নেতাকে সুনিদির্ষ্ট অভিযোগ ছাড়া গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই অবিলম্বে তাদেরকে মুক্তি দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ওলিউর রহমান খান, কামরুল ইসলাম সজল, আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি মো. শাহাজাদা, রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রাজা, খালেদা পান্না, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ, আঞ্জুমান আরা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে ছয় থেকে সাতদিন হতে পারে। ওই সময় পর্যন্ত পদত্যাগী মন্ত্রীরা দপ্তরে এসে দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন করবেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।

শেয়ার করুন