সরকার আমলাদের কাছে হেরে গেছে: দুদক

0
46
Print Friendly, PDF & Email

সংশোধিত আইনের কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে। আমলাদের কাছে সরকার হেরে গেছে বলেও ধারণা করছেন তারা।

কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে ব্যুরোর আমলের মতোই সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

শেষ বেলায় এসে সরকারি কর্মকর্তাদের চাপে সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে ইচ্ছাকৃত দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন খোদ দুদক কর্মকর্তারা।

এমন আইনের কারণে দুদকের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসবে ও প্রতিষ্ঠানটির ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে বলে মনে করছেন দুদক কর্মকর্তারা।

দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে ২০০৪ সালে কমিশন করার পর সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে সরকারের অনুমতি নেয়ার বিধান তুলে নেয়া হয়। এরপর গত পাঁচ বছরে অনেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে অনুমতি ছাড়াই।

দুদক নিজেও মামলা করার এই ক্ষমতা ধরে রাখার পক্ষে। কিন্তু এর বিরোধী সরকারি কর্মকর্তা। তাদের দাবি, এমন বিধান থাকার ফলে মামলা হওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় সাধারণ সিদ্ধান্ত নিতেও ভয় পান কর্মকর্তারা।

এ কারণে সরকারি কাজের গতিশীলতা কমে যায় অনেকাংশে। তাই তারা এই বিধান বাতিলে সরকারের কাছে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন। কর্মকর্তাদের চাপেই সরকার এই আইন পাস করেছে বলে বলেই মনে করছে দুদক।

জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন বিল সরকার কেন এভাবে পাস করলো এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

পত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। মামলা করার ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে বলে শুনেছি’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথে তারা আলোচনা করবেন।

দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, এই আইন করাতে দুদক তার কার্যকারিতা হারাবে। তিনি বলেন, সরকার কেন করলো সেটা রাজনীতিবিদরাই ভাল বলতে পারবেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক উর্ধতন কর্মকর্তারা বলেন, সরকার যেভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন বিল পাস করেছে এতে দুদক আরো ক্ষমতাহীন হয়ে পরলো।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে সেটি যদি সরকার নির্ধারণ করে তাহলে দুদকের প্রয়োজনীয়তা কি? সরকার যদি মামলার বিষয়টি বলে দেয় তাহলে দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্তেও প্রভাব বিস্তার করবে’।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্নীতিতে রাজনীতিবিদদের বাঁচায় আমলারা ও আমলাদের বাঁচায় রাজনীতিবিদরা। দুর্নীতির ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদ ও আমলারা ভাই ভাই। তাদের এই ভ্রাতৃত্ববোধ আরো বৃদ্ধি পাবে’।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন আইনের কারণে দুদক কর্মকর্তারাও দুর্নীতির ঘটনা অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে উৎসাহ হারাবে। তারা ঝুঁকি নিয়ে আর অনুসন্ধান করবে না’।

গতকাল সংসদকাজে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে সাতটি সংশোধনীসহ তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংসদ এই আইন পাস করলেও সংসদীয় কমিটির সুপারিশে এই বিধান রাখা ছিল না। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকারও করেন।

তাহলে কেন এমন বিধান পাস হলো, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান কামরুল ইসলাম। তিনি আইনমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও মোবাইল ফোনে কল করে পাওয়া যায়নি আইনমন্ত্রী শফিক আহমদকে।

শেয়ার করুন