মির্জা ফখরুলকে নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে!

0
68
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিডিয়া কভারেজের মধ্যে থেকেই দলের নেতৃত্ব দিতে চান। কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত দল গোছানোর জন্য সামান্যতম ভুমিকাটুকুও রাখছেন না। সমন্বয় রাখতে পারছেন না ১৮ দলের শরীকদের সঙ্গে। তাকে কেন্দ্র করে দলে তৈরি হয়েছে একটি সুবিধাভোগী মহল। আর এর প্রভাব পড়ছে দলের সর্বস্তরের নেতৃত্বের ওপর। ফলে হরতালসহ সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলনের কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় নেতারাও কর্মসূচিতে মাঠে নামতে চাইছেন না। একই সঙ্গে বিভ্রান্ত হচ্ছেন মধ্যম সারির নেতারা। কর্মীরা হচ্ছেন বিব্রত।

পরিস্থিতি এমন যে, বিক্ষোভ, হরতাল, অবরোধসহ যেকোনো দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত হলেই প্রেস ব্রিফিং করে জানিয়ে দেয়ার দায়িত্বটি পালন করেন তিনি। আর দিনে ২/৩টি আলোচনা সভায় অতিথি হওয়া, ক্যামেরা দেখলেই কথা বলা-এসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তার দায়িত্ব। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, হরতাল ডেকেই চুপ থাকছেন শীর্ষ নেতারা। এজন্য তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করা হচ্ছে না। মহাসচিবের কাছ থেকেও আসছে না দিকনির্দেশনামূলক কোনো বার্তা। টিভি-পত্রিকায় দেখে জানতে হচ্ছে হরতালের খবর।

দুই দফা টানা ৬০ ঘণ্টা করে হরতাল পালনের পর আবারো ৮৪ ঘণ্টার হরতাল পালন করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। শুক্রবার বিকালে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ কর্মসূচির বিষয়েও দলের মধ্যম সারির তো দূরের কথা, কেন্দ্রীয় নেতাদেরও অনেককে জানানো হয়নি। কর্মসূচি পালনের বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের কাছে কোনো নির্দেশনাও যায়নি। এছাড়া হরতাল ঘোষণার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ তিন নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবাদ জানাননি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। হরতালের সময় আরো ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণাটিও এসেছে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর কাছ থেকে। ৮৪ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনেও তার দেখা মিলছে না কোথাও।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জোটের শরিকদের নিয়ে একের পর এক হরতাল কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। কিন্তু গাড়িতে আগুন, ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো ছাড়া নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এ কারণেই আন্দোলনে গতি সঞ্চার হচ্ছে না বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। এদিকে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলকে আন্দোলনের ভ্যানগার্ড বলে বিএনপি নেতারা দাবি করলেও তাদের তৎপরতাও তেমন একটা চোখে পড়ছে না। তবে সভা-সমাবেশে নিয়মিতই উপস্থিত থাকেন সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। ক্যামেরার সামনে দল বেঁধে ৫-১০ জনকে মিছিল করতে দেখা গেলেও পরক্ষণেই মিলিয়ে যান তারা। এক্ষেত্রেও দিকনির্দেশনার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে একে আন্দোলনের কৌশল বলেই দাবি করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রথম দুই দফা হরতালের পর তিনি বলেন, ‘হরতালে দলের নেতারা ঢাকায় মাঠে থাকবেন না— সেটাই আমাদের কৌশল। রাজধানীতে বিভিন্ন বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে দলের নেতাদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না সরকার। তবে আগামীতে আমাদের সব নেতাকর্মী মাঠে নামবেন।’ সেই আগামীটা যে কবে আসবে সেটাই এখন প্রশ্ন তৃণমূল নেতাদের। ঢাকাতে নেতারা মাঠে না থাকলেও চট্টগ্রামে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরিশালে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়াররা মাঠে থাকছেন নিয়মিতই।

এছাড়া মির্জা ফখরুলের দায়িত্বকালীন জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। বেশিরভাগ জেলাতেই কমিটি করা হয়েছে গোজামিল দিয়ে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোও গঠন করা যায়নি।

শেয়ার করুন