দিশেহারা ১৮ দলীয় জোট : তালিকা নিয়ে মাঠে নামছে পুলিশ

0
108
Print Friendly, PDF & Email

“বিএনপি’র প্রথমসারির পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সরকার প্রাথমিক মহড়া দিয়েছে। এটা ছিল এসিড টেস্ট। ভবিষৎ-এ হরতাল জাতীয় কোনো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হলে ধরপাকড়ের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পাবে”-ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা এই মন্তব্য করে বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা নেই সরকারের।

অন্যদিকে, একটানা ৮৪ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীতে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতারা মাঠে নামেননি। ফলে রাজপথে হরতালের চিত্র পাল্টে গেছে।

প্রাইভেটকার ছাড়া সব ধরণের যানবাহন, বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গণপরিবহন চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষ হরতাল উপেক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে মনে করেন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপি’র একনেতা।

নিজের পরিচয় তুলে ধরতে নারাজ ঐ নেতা কিছুটা ক্ষোভ মিশ্রিত কন্ঠে বলেন, সরকারের দমন-নিপীড়নের ভয়ে কেন্দ্রিয় নেতারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

কিন্তু সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে কি ভয় পেলে চলে-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি আরো বলেন, সাধারণ কর্মীরা রাস্তায় তখনই নামবেন যখন নেতারা সামনে থাকবেন। অথচ তার কোনো আলামত নেই। পুলিশের ভয়ে নেতারাই এখন দিশেহারা।

গত দু’দিনে রাজধানীর হরতাল পরিস্থিতি দেখে তিনি আশাবাদী নন। এভাবে চললে সরকার হঠানো সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক সন্দিহান দীর্ঘদিন বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মধ্যমসারির এই নেতা।

বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলন দমন করতে যে কঠোর কৌশল নেয়া হচ্ছে তার যৌক্তিকতা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ১৪ দলের মূখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম রাইজিংবিডিকে বলেন, হরতালের নামে বিরোধী দল দেশজুড়ে যে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালাচ্ছে তা মোকাবেলা করতে হলেতো সরকারকে কঠোর হতেই হবে।

এপ্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, মহাজোট সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধ জোট ভবিষৎ-এ হরতালের মত কঠোর কর্মসূচিতে গেলে সরকারও কঠোরতম পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আটক করে পরিস্থিতি মোকবেলা করা হবে বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ নাসিম।

সরকারের অন্য একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার ৮৪ ঘন্টার হরতাল শেষ হবার পরপরই ব্যাপক ধরপাকড়ের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। শুধু কেন্দ্রে নয়, জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের তালিকা করে চলবে গ্রেপ্তার অভিযান। হরতালের ডিউটিতে থাকায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের অপ্রতুলতার কারণে এই গ্রেপ্তার অভিযানের জন্যে সময় নেয়া হচ্ছে বলে ঐ সূত্রটি জানান।

এছাড়া, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে নেতা-কর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন ও নিষ্ক্রিয় করার কৌশল সফল হয়েছে জানিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রটি আরো বলেন, খালেদার বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে যাতে বিএনপি ও জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘেঁষতে না পারেন, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সে লক্ষ্যেই গত শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার এবং আরও কয়েকজন নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিএনপিসহ ১৮-দলীয় জোটের নেতাদের গ্রেপ্তার-আতঙ্কে ফেলা হয়েছে। কেন্দ্রিয় নেতারা একত্র হয়ে যাতে একসাথে বসতে না পারেন সে জন্য পুলিশের তৎপরতা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার-আতঙ্কে রেখে দলীয় কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার কৌশল অবলম্বন করেছে সরকার।

তবে এখনই খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী বা গ্রেপ্তারের কোনো চিন্তাভাবনা সরকারের নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সরকারে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি। শুধুমাত্র নিরাপত্তার অজুহাতে তাঁর চলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মাত্র। এজন্যে বিরোধী দলের পরবর্তী কর্মসূচি দেখেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

আওয়ামী লীগের আরেকজন জ্যেষ্ঠ নেতা রাইজিংবিডিকে বলেন, সরকার ২২ জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। খালেদা জিয়া এই নির্বাচন বর্জন করবেন সেটা ধরে নিয়েই বিএনপিকে আগাম কোণঠাসা করে দলটির নেতাদের একাংশকে নির্বাচনে নিয়ে আসার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতেই খালেদা জিয়াকে দল ও জোটের নেতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, সরকারের গোপন এজেন্ডাই হচ্ছে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটকে নির্বাচনের বাইরে রাখা। এখন সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এ জন্য সরকার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নেতা-কর্মীদের থেকে দূরে রাখার নিপীড়নমূলক কর্মকান্ড শুরু করেছে।

শেয়ার করুন