জাতি প্রধানমন্ত্রীরও পদত্যাগ চায়: বিএনপি

0
61
Print Friendly, PDF & Email

সর্বদলীয় সরকার গঠনে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র দেয়াকে ‘পুরনো নীল নকশার অংশ’ আখ্যায়িত করে বিএনপির রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জাতি’ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যারা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবেন, তাদের বাদে বাকিদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।

এর ঘণ্টাখানেক পর নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, “চলমান সংকট নিরসনের একমাত্র পথ নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য একটি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখন গোটা জাতি উম্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য।”

প্রধানমন্ত্রী এখন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ‘সুবিবেচনায়’ নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেই দেশে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশের শান্তির জন্য পদত্যাগ করতেও তিনি রাজি। দেশের মানুষ এখন সেজন্যই প্রতীক্ষা করছে।

“আমরা মনে করি, মন্ত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীরও পদত্যাগ করা উচিৎ। তা হবে ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি পদক্ষেপ।”

আর তা না করে আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় সরকার গঠনের’ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলে সংকটের সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

“তাহলে বুঝতে হবে- সরকার নীল নকশার নির্বাচনের পথে হাঁটছে।’’

টানা ৮৪ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনে সারাদেশে ‘সর্বাত্মক হরতাল’ চলছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মুক্তির দাবিতে রোববার ভোর থেকে ১৮ দলীয় জোটের এই হরতকাল শুরু হয়।

আগের দিনের মতো সোমবারও নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রধান ফটকে ভেতর থেকে তালা দিয়ে ভেতরে অবস্থান করছেন রিজভী।

কার্যালয়ে কোনো নেতা-কর্মীকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের সাঁজোয়া যান, প্রিজন ভ্যান, জল কামানের গাড়ি ও দুইটি সাদা মাইক্রোবাস বিএনপি কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

শেয়ার করুন