পুলিশ ক্যাডারে অতিরিক্ত নিয়োগের উদ্যোগ

0
38
Print Friendly, PDF & Email

নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার মুহূর্তে পুলিশ ক্যাডারে বাড়ছে পদসংখ্যা। ৩৩তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে (এএসপি) পদসংখ্যা বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

বিষয়টি অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। ৩৩তম বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল অপেক্ষমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মুলত: প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ ক্যাডারে পদসংখ্যা বাড়ানোর এই চেষ্টা বলে জানা গেছে।

পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা`দত হুসাইন এই বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, `বিসিএস পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় বিজ্ঞাপিত পদের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। তবে তা ভালো নয়। আমাদের দেশে খারাপ নজিরকেই বারবার টেনে আনা হয়।

যতটি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, ঠিক ততটি পদেই নিয়োগ দেওয়া উচিত। আর নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় পদের সংখ্যা বাড়ানো নৈতিক দিক থেকে ঠিক নয়। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে কেউ আদালতে গেলে সরকার হেরে যাবে বলে আমি মনে করি।

সূত্র মতে, গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি পিএসসির ৩৩তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। ১৪টি ক্যাডারের মোট ৫৮২টি শূন্য পদের বিপরীতে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপারের ৮৯টি পদ ছিল।

প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষাও শেষ হয়েছে বেশ আগেই । এ অবস্থায় সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এএসপি পদের সংখ্যা ৭১টি বাড়িয়ে ১৬০টি করার প্রস্তাব করা হয়। নতুন পদ সৃষ্টি, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণ, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের জন্য পদসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপারের পদ শূন্য হয়েছে ছয়টি। পুলিশের দুটি নতুন ইউনিট পর্যটন পুলিশ ও নৌ-পুলিশ গঠনের কাজ চলছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পুলিশের এএসপির শূন্য পদের সংখ্যা ৮৯টি নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরও কেন নতুন পদ যোগ করতে হবে- এই প্রশ্ন তাদের। ৩৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশ হতে যাচ্ছে এমন সময় পদের সংখ্যা বাড়ালে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন তারা।

জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে পদ সৃজন, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও কিছু পদ রিজার্ভ রাখার হিসাবকে আমলে নিয়েছে। তারা ৩৩তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে আরো ১১টি পদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসনের এ প্রস্তাবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স খুশি নয় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান।

পিএসসির চেয়ারম্যান এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, `৩৩তম বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ফল তৈরির কাজ চলছে। ফল প্রকাশ হওয়ার আগে সরকার ইচ্ছা করলে যেকোনো ক্যাডারের পদসংখ্যা বাড়াতে পারে। এ ধরনের নজির আছে।

উল্লেখ্য, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ৩৩তম বিসিএসের পর ৩৪তম বিসিএসের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। ৩৪তম বিসিএসে ২ হাজার ১৬৭টি শূন্য পদের বিপরীতে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে। সেখানেও পুলিশ ক্যাডারের এএসপির ৮০টি পদ রয়েছে।

শেয়ার করুন