মওদুদ নিয়ে তৎপর দুদক

0
58
Print Friendly, PDF & Email

হরতালের আগে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তৎপর হয়ে উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক হারুনুর রশিদ রোববার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘এতদিন বিভিন্ন কারণে এবং শিডিউলগত জটিলতায় অনুসন্ধান স্থগিত ছিল। সম্প্রতি কমিশন গুরুত্ব সহকারে পুনরায় এটা(অনুসন্ধান)শুরু করেছে।”

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি ঘোষিত হরতাল কর্মসূচিতে পুলিশের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ৩ সদস্য- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

একই অভিযোগে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হন ব্যবসায়ী নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আওয়াল মিন্টু ও খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বর্তমানে মওদুদসহ বিএনপির পাঁচ নেতা কারাগারে রয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মওদুদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর কৌঁসুলি ছিলেন।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেনাশাসক জিয়ার মন্ত্রিসভায় যোগ দেন তিনি।

জিয়া সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

জিয়া হত্যার পর আরেক সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা নিলে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে এরশাদের সরকারে যোগ দিয়ে তার প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতিও ছিলেন তিনি।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর মওদুদ আবার দল পাল্টে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

২০০৮ সালের নির্বাচনে নিজ নির্বাচনী এলাকায় পরাজিত হলেও পরে খালেদার জিয়ার ছেড়ে দেয়া একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ।

ম্ওদুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ উপার্জন ও মুদ্রাপাচারের অভিযোগ রয়েছে। আমরা অনেক আগে থেকেই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম, কিন্তু তখন আমাদের হাতে অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব ছিল।

“সম্প্রতি যেসব লোকাল তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে, তা নিয়েই আমরা অগ্রসর হচ্ছি।”

দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশিদ জানান, চলতি বছর জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার মারফত দুদক জানতে পারে গত ২০০৫ সালে লন্ডন ও হান্টিংটনে স্ত্রী হাসনা মওদুদের নামে ২ টি বাড়ি কেনেন মওদুদ।

সম্প্রতি গ্রেপ্তারের আগে তিনি অকস্মাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসার জন্য ব্রিটেন যান।

‘চিকিৎসা শেষে’ দেশে ফিরে একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান থেকে বেরুনোর পরপরই আটক হন তিনি।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেশের ১২ টি ব্যাংকে ব্যারিস্টার মওদুদ এবং তার স্ত্রী হাসনা মওদুদের নামে ২০০ টি মেয়াদী আমানত( এফডিআর) এর সন্ধান পায় দুদক, যেগুলোতে মোট অর্থের পরিমাণ ২০ কোটি টাকারও বেশি রয়েছে।

হারুনুর রশিদ বলেন, “এনবিআর এ সম্পদ বিবরণী দাখিলের সময় তিনি ইংল্যান্ডের বাড়ি ও এফডিআর এর তথ্য গোপন করেছিলেন।”

এনবিআর থেকে মওদুদের জব্দকৃত ফাইল ও ব্যাংকগুলোর কাগজপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

শেয়ার করুন